কৃষি সংবাদ ডেস্ক:
ভারত মহাসাগরে মাছের উৎপাদন ও টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে মালদ্বীপে শুরু হয়েছে ইন্ডিয়ান ওশান টুনা কমিশনের (IOTC) ৩০তম বার্ষিক সম্মেলন। গত ১১ মে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। যা আগামী ১৫ মে পর্যন্ত চলবে।
সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সম্প্রতি স্ট্যান্ডিং কমিটি অন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স (SCAF)-এর কার্যক্রম অত্যন্ত সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে সম্মেলনটিতে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপকূলীয় দেশগুলোর প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক মৎস্য বিশেষজ্ঞ এবং নীতিনির্ধারকরা অংশ নিয়েছেন। এবারের সম্মেলনের প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে ইয়েলোফিন টুনা প্রজাতির মাছের মজুদ রক্ষায় নতুন পরিকল্পনা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা। ভারত মহাসাগরের বাস্তুসংস্থান রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে টুনা মাছের ওপর প্রভাব মোকাবিলে এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মাছ ধরার সীমা এবং টেকসই মৎস্য আহরণ নীতি নিয়ে আলোচনা।
মালদ্বীপের মৎস্য ও সমুদ্র সম্পদ মন্ত্রী আহমেদ শিয়াম এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, মালদ্বীপের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা সরাসরি সমুদ্রের ওপর নির্ভরশীল। তাই এই সম্মেলনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলবে।
এবারের সেশনে SCAF কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি এবং মৎস্য বিশেষজ্ঞ ড. তানভীর হোসেন চৌধুরী। তার সভাপতিত্বে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক নীতিমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অধিবেশনে ড. তানভীর হোসেন চৌধুরীর পরিচালনায় “Adoption of the Standing Committee on Administration and Finance Report” সেশনটি অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে উপস্থিত সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা কমিশনের বিগত বছরের কাজের পর্যালোচনা এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ঐক্যমতে পৌঁছান।
সভার প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো ছিল:
১. আইওটিসি-র বার্ষিক বাজেট এবং প্রশাসনিক ব্যয় অনুমোদন।
২. ভারত মহাসাগরে টুনা মাছের টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয়।
ড. তানভীর হোসেন চৌধুরীর নিরপেক্ষ ও পেশাদার সভাপতিত্বে কমিটির রিপোর্টটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। উপস্থিত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এই বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন, যা আন্তর্জাতিক মৎস্য কূটনীতিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।