1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
বন্যায় নষ্ট ধান নিয়ে কৃষকের মাথায় হাত - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

বন্যায় নষ্ট ধান নিয়ে কৃষকের মাথায় হাত

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০২৫
  • ৮৫ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে রবিশস্য তুলে সাত বিঘা জমিতে ব্রি-২৯ জাতের বোরো ধান রোপণ করেছিলেন আজগার আলী। ঈদের পরপরই ধান কাটার কথা ছিল তার। কিন্তু মাত্র তিনদিনের ভারি বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে ডুবেছে পাকা ধানের ক্ষেত। এতে ফসল তোলার আনন্দ যেন বিষাদে রূপ নিয়েছে আজগার আলীর পরিবারে।

তিনি জানান, কোমর সমান পানি থেকেই বাড়তি পারিশ্রমিকে কামলা (কৃষি শ্রমিক) এনে কিছু ধান কাটার ব্যবস্থা করেছেন। এতেও সুবিধা করতে পারেননি। অধিকাংশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের বার্ষিক খোরাকির ধানও জোটানো নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

তাড়াশের মাগুড়াবিনোদ এলাকার ভুক্তভোগী আজগারের মতোই ভাগ্য বিস্তীর্ণ এলাকার অন্য কৃষকদেরও। বন্যার নষ্ট হওয়া ধান নিয়ে এখন তাদের মাথায় হাত একই এলাকার পাচান গ্রামের কৃষক আরমান আলী। সমকালকে তিনি জানান, কামলা না পেয়ে মোট জমির এক মুঠো বোরো ধানও কাটতে পারেননি।

স্থানীয়রা বলছেন, আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন মূলত ব্রি-২৯ বা নাবী জাতের বোরো ধানের চাষিরা। যদিও একই এলাকায় আগাম জাতের বোরো যারা চাষ করেছিলেন; তারা বন্যার শুরুর ১২-১৫ দিন আগেই ধান কাটা শেষ করেছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, মাত্র কয়েক দিনের আকস্মিক বন্যায় চলনবিলের ‘শস্যভাণ্ডার’ খ্যাত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর; পাবনার ভাঙ্গুরা, চাটমোহর এবং নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়া এলাকার নিচু জমি ডুবে গেছে। এতে হাজার হাজার বিঘা জমির পাকা ও আধা পাকা বোরো ধান কোথাও তলিয়ে গেছে; কোথাও হাবুডুবু খাচ্ছে। মিলছে না ধান কাটার পর্যাপ্ত শ্রমিক। এছাড়া কোমর সমান পানিতে কাজ করছে না ধান কাটা যন্ত্রও।

এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন পশ্চিম চলনবিল অঞ্চলের নাবী জাতের ধানের আবাদ করা কৃষকরা। তাড়াশের ঘরগ্রাম এলাকার কৃষক ইসমাইল হোসেন সমকালকে বলেন, তাড়াশ উপজেলার সদর, সগুনা, মাগুড়াবিনোদ ও নওগাঁ ইউনিয়ন এলাকার কমপক্ষে ২৫-৩০টি গ্রামের পাকা বোরো ধানের জমিতে এখন হাঁটু বা কোমর সমান পানি। এ এলাকার কৃষকের ঘরে এবার ঈদ নেই। জমির ধান কাটতে শ্রমিক আর হারভেস্টরের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছি।

পাবনার চাটমোহরের নিমাইচড়া এলাকার কৃষক পুলক কুমার বলেন, চলনবিলের আট উপজেলার কৃষকরা ফাল্গুন মাসে রবিশস্য তুলে বোরো ধান রোপণ করেন। এগুলো সাধারণত ১১০-১২০ দিনে ঘরে তোলা যায়। ধান পাকতে দেরি হওয়ায় এ বছর জ্যেষ্ঠ মাসেই আকস্মিক বন্যায় চলে এসেছে। এখন আর ঘরে তুলতে পারছি না।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিলসা এলাকার কৃষক আয়নাল মন্ডল বলেন, পানিতে ধানের শীষ জেগে আছে- এমন জমির ধান কাটতে বর্তমানে বিঘাপ্রতি খরচ হচ্ছে সাড়ে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। এরমধ্যে হারভেস্টরে বিঘাপ্রতি সাড়ে ৪ থেকে সাড়ে সাড়ে ৫ হাজার টাকা; দিন হাজিরায় শ্রমিকপ্রতি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। পাশাপাশি চলমান এই দুর্যোগের মুহূর্তে যে পরিমাণ কৃষি শ্রমিক বা হারভেস্টর প্রয়োজন, তাও মিলছে না।

তিনি আরও বলেন, পাকা বোরো ধান চোখের সামনে ডুবতে দেখে চলনবিলের আট উপজেলার ১৫-২০ ইউনিয়নের শতশত কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সোমবার বিকেল পর্যন্ত বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। পাকা ধান ঘরে তুলতে না পেরে অনেকেই কাঁদছেন।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রকৃতির ওপর কারো হাত নেই। তারপরও যতটুকু পারা যায়, জমির পাকা ধান ঘরে তোলার জন্য কৃষক ভাইদের চেষ্টা চালিয়ে যাবার পরামর্শ দিচ্ছি।

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park