কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নতুন পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত আগামী সরকার নেবে। রোববার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, একটা পে-কমিশনের ব্যাপার আছে সেটা আমরা এখন কিছু বলতে পারি না, কারণ ওটা দেখা যাক কতদূর যায়। সেটা আগামী সরকারের। আগামী সরকার হয়তো সেটা এসে করতে পারে। আমাদের ব্যাংক সেক্টর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাংক সেক্টরটা মোটামুটি যেটা শুরু হয়েছে, আর বাকিগুলো ধীরে ধীরে করবে। এই জিনিসগুলো আমরা আগামী সরকারের জন্য রাখছি।
বাজার স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে সরকার যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, সেসব বিষয়েও কথা বলেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। ইউরিয়া ও টিএসপি সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেদ্ধ চাল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে খাদ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে আনার চেষ্টা করছে সরকার। পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে তিনি মনে করেন। চালের দাম মোটামুটি সহনীয়। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বলে আজ স্বীকার করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। বলেন, যাতায়াত ও বাড়িভাড়া বেড়েছে। বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুসারে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পান। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন প্রায় ১৫ লাখ।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, চলমান ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তির অর্থছাড়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আইএমএফের আরেকটি মিশন বাংলাদেশে এসে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আইএমএফকে আমরা বলেছি, এই মুহূর্তে আমাদের ঋণের কিস্তির দরকার নেই। তারা আগে পর্যালোচনা করুক। নির্বাচিত সরকার কতটা ঋণ চায়, সেটা নিয়ে ফেব্রুয়ারির মিশন আলোচনা করবে, এরপর নাহয় ঋণছাড় হবে। আইএমএফ বলেছে, আমরা ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। তাদের কিছু পরামর্শও আছে, যেমন রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে, সেই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়াতে হবে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আগামী সরকারকে আইএমএফের ঋণ, সংস্কারের শর্তসহ সব বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা তৈরি করে দেওয়া হবে। আমরা ফেব্রুয়ারির দিকে ইলেকশনের সাথে সাথে ওরা আবার রিভিউতে আসবে, তারপর ওরা ডিসাইড করবে।
তিনি বলেন, ওদের কিছু কিছু রিকমেন্ডেশন আছে। যেমন রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। সেটা আমি স্বীকার করেছি, ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও লো। সেটার অনেক কারণ আছে। আমাদের লোকজন ট্যাক্স দিতে চায় না। আইএমএফের আরেকটা ফাইন্ডিং আছে সামাজিক সুরক্ষার জন্য আরো বেশি ব্যয় করা, বিশেষ করে স্বাস্থ্য শিক্ষা সামাজিক নিরাপত্তা এবং খাদ্যটা। খাদ্যটা আমরা মোটামুটি ভালো করছি। সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটা কন্টিনিউ প্রসেস। আমরা এটাকে একটা ভালো করে প্যাকেজিং যেটা বলে আর কি, প্যাকেজিং করে দেব, আগামী সরকারের কাছে, যেসব মেজর সরকার সংস্কার।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আমার চূড়ান্ত কথা হবে ১৫ তারিখে। আইএমএফের সঙ্গে আমার জুমে কথা হয়েছে। ওরা বলেছে তোমাদের সার্বিক অর্থনৈতিক দিকটা আমরা অত্যন্ত হ্যাপি। ঠিক আছে যা যা করার তোমরা চেষ্টা করছো, করেছো।