কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূলচেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বিশেষ করে বিশেষ করে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ‘জুলাইযোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা বা ইনডেমনিটি প্রদান এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক নামকরণ পরিবর্তনের বিষয়টি এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।
আজ সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
অপরদিকে, বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, বিগত ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শুরু করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। জরুরি প্রয়োজনে জারি করা এসব অধ্যাদেশ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংসদের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হতে পারে। জয়নুল আবেদীন বলেন, তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিশেষ পরিস্থিতিতে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। এই অধ্যাদেশগুলো জনস্বার্থ ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে কতটুকু কার্যকর, তা যাচাইয়ের জন্য সংসদ থেকে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রথম বৈঠকে অর্ধেকেরও কম অধ্যাদেশ পরীক্ষা করা হয়েছে। কিছু বিষয়ে সদস্যদের ভিন্নমত রয়েছে, যা নিয়ে পরবর্তী সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এই আন্দোলনে যারা বীরত্বের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন, তাদের জন্য যে ‘ইনডেমনিটি’ বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা সরকার গ্রহণ করবে। আমরা তাদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবেই অভিহিত করব।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। আজকের বৈঠকে এসব অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে এই বিষয়গুলোর চূড়ান্ত সুরাহা করতে হবে। আমাদের হাতে থাকা সময় থেকে ইতোমধ্যে ১৫ দিন পার হয়ে গেছে। বাকি ১৫ দিনের মধ্যেই আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।
বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক নামকরণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের দাবির মুখে বিতর্কিত সব নামকরণ পরিবর্তনের বিষয়টি আজকের আলোচনার অন্যতম প্রধান অ্যাজেন্ডা। প্রতিটি ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির মো. মুজিবুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের জন-আকাঙ্ক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলোকে জামায়াত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। তবে যদি কোনো অধ্যাদেশ সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বা জনস্বার্থ পরিপন্থি হয়, তবে সে বিষয়ে আমরা আমাদের জোরালো মতামত তুলে ধরব। সংসদ ভবনে চলমান এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সরকারি ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এরই মধ্যে সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সরকারি দল ও বিরোধীদলের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন।