1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
গোলাপজল ও কেওড়া জলে বিষাক্ত রাসায়নিক, উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের নির্দেশ - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

গোলাপজল ও কেওড়া জলে বিষাক্ত রাসায়নিক, উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের নির্দেশ

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৭ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:

বাজারে বিক্রি হওয়া গোলাপজল ও কেওড়া জল নামক সুগন্ধি পণ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য ব্যবহৃত অননুমোদিত রাসায়নিক। সম্প্রতি চালানো এক অভিযানে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে, যা সাধারণ মানুষসহ খাদ্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) মোবাইল কোর্টের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এসব সুগন্ধি খাদ্যে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে, কিন্তু এর মধ্যে মানব শরীরের জন্য বিপজ্জনক রাসায়নিক উপাদান মিশ্রিত রয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা আইন ও স্বাস্থ্য বিধির বিরুদ্ধে হলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব পণ্যের লেবেলে ‘খাবার উপযোগী’, ‘ফুড গ্রেড’, ‘খাদ্য আইন অনুসরণ করে প্রস্তুতকৃত’ এবং ‘ভেজিটেরিয়ান খাদ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করে বাজারজাত ও বিক্রি করা হচ্ছে; যা সুপষ্ট আইনের লঙ্ঘন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গোলাপজল এবং কেওড়া জল নামের এই সুগন্ধি পণ্যগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ‘বিশুদ্ধ পানি’ এবং ‘গোলাপ/কেওড়া ফ্লেভার’ বা শুধুমাত্র ‘ফ্লেভার’ হিসেবে উপাদান উল্লেখ করা হলেও, আসলে এর উপাদান ঠিক কী তা স্পষ্ট নয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এই সুগন্ধি প্রস্তুত করতে রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খাদ্যের জন্য অনুমোদিত নয়।

মোবাইল কোর্টের অভিযানে এই পণ্যের উৎপাদনকারীদের কারখানায় পাওয়া যায়, গোলাপজল ও কেওড়া জল প্রস্তুত করতে এমন রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত হয়। এটি একদিকে যেমন মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে, অন্যদিকে খাদ্য আইনের কঠোর লঙ্ঘন ঘটাচ্ছে।

নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘন

খাদ্য সংযোজন দ্রব্য হিসেবে ব্যবহারযোগ্য সুগন্ধির লেবেলে যদি ‘অনুমোদিত প্রাকৃতিক’, ‘অনুমোদিত কৃত্রিম’ বা ‘অনুমোদিত প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম’ সুগন্ধি হিসেবে উল্লেখ না করা হয় এবং কৃত্রিম সুগন্ধির ক্ষেত্রে ব্যবহার হওয়া উপাদানের সাধারণ নাম ও ইনডেক্স (আইএনএস) নম্বর উল্লেখ না করা হয়, তবে তা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৭ ও ৩২ ধারার কঠোর লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে বলে জানিয়েছে বিএফএসএ।

এক্ষেত্রে, খাদ্য ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। তারা যেন গোলাপজল বা কেওড়া জল নামক সুগন্ধি পণ্যগুলো যেকোনো অবস্থাতেই খাদ্যে ব্যবহার না করে। এই ধরনের পণ্যের উৎপাদন এবং বিপণন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সরকারি সংস্থা বিএফএসএ।

খাদ্য প্রস্তুতকারকদের জন্য সতর্কতা

সব খাদ্য প্রস্তুতকারী বা সরবরাহকারী, যেমন- রেস্টুরেন্ট, বেকারি, কমিউনিটি সেন্টার, ক্যাটারিং সার্ভিস ইত্যাদি, তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, এমন সুগন্ধি খাদ্যে ব্যবহার না করার জন্য। উপযুক্ত লেবেলিং ছাড়া এসব সুগন্ধি পণ্য ব্যবহারের ফলে জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপদ তৈরি হতে পারে।

সর্বসাধারণের জন্য সতর্কতা

সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বিএফএসএ জানিয়েছে, গোলাপজল ও কেওড়া জল নামে যেসব সুগন্ধি খাদ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর লেবেলে যদি সঠিক তথ্য না থাকে, তবে তা ক্রয় বা ব্যবহার না করার জন্য। খাদ্যের গুণমান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সঠিক লেবেলিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া, সব খাদ্য ব্যবসায়ী, প্রস্তুতকারী এবং সাধারণ জনগণকে এ ধরনের সুগন্ধি পণ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবার সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park