1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
ক্যাপসিকামের বাম্পার ফলন, দামে খুশি কৃষকরা - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

ক্যাপসিকামের বাম্পার ফলন, দামে খুশি কৃষকরা

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৫
  • ৭১ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি ভোলা:

ভোলার চরাঞ্চলের মাটি উর্বর ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর জেলায় ক্যাপসিকামের ব্যাপক ফলন হয়েছে। এ বছর শীত মৌসুমে ক্যাপসিকামের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকরা।

ভোলার ক্যাপসিকাম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যায় রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায়। ক্যাপসিকাম চাষ করে এখন ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন জেলার বেকার যুবকরা। অনাবাদী ও পতিত জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করে দিন বদলের সংগ্রাম করছেন এসব যুবক। অন্য ফসলের চাইতে কম সময় ও স্বল্প পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন ক্যাপসিকাম চাষের দিকে ঝুঁকছেন চরাঞ্চলের মানুষ।

স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন, কৃষি বিভাগের সহায়তা ও উদ্যোগ থাকলে ভোলায় ক্যাপসিকাম চাষে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব।

এক সময় উপকূলকে এক ফসলের জমির অঞ্চল বলা হলেও সেই অপবাদ অনেকটাই বদলে দিয়েছেন ভোলার কৃষকরা। তারা ধানী জমির পাশে কিছুটা উচু ও পতিত জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করে সাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কেউ কেউ মাছের খামার ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়েছেন ক্যাপসিকাম চাষ। এতে এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া আর রোগ বালাই না হলে,খরচ পুষে দ্বিগুন লাভবান হওয়ার কথাও জানান অনেকে। বর্তমানে ভোলা দ্বীপের কৃষকের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে রয়েছে ক্যাপসিকামের সমারোহ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোলা সদর উপজেলার মাঝের চর, রাজাপুর, বড়াইপুর, রামদাসপুর, চর চটকিমারা, চর হোসেন, দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চর, মাঝের চর, বোরহানউদ্দিনের চর লতিফ, গঙ্গাপুর চর, চর ব্যারেট, চর ছমিরউদ্দিন, লালমোহনের কচুয়াখালী চর, চর শাহজালাল, তজুমদ্দিনর উপজেলার চর জহিরউদ্দিন, মনপুরার চর কলাতলি,ঢালচর, বদনার চর এবং চরফ্যাশনের কুকরি-মুকরি, ঢালচর, চর পাতিলাসহ বিভিন্ন চরে ধানের পাশাপাশি সবজি চাষ চলছে বছরের পর বছর ধরে।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা ১০ বছর ধরে ফসলী জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করছেন। অন্যান্য বছরগুলোতে ব্যাপক ফলন না হলেও এবার ফসলটির বাম্পার ফলন হয়েছে।

এসব চরে এ বছর শত শত হেক্টর জমিতে ক্যাপসিকামের চাষ হয়েছে। এখানকার ক্যাপসিকাম স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে নৌ-পথে চলে যায় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারী বাজারে। এছাড়া জেলা সদর ভোলার মাঝের চরের উৎপাদিত ক্যাপসিকাম দেশের বাইরেও রপ্তানি হচ্ছে। যা এখানকার চরাঞ্চলের কৃষি খাতকে আরো সমৃদ্ধ করে তুলছে।

দৌলতখানের মদনপুর চরের কৃষক হেলালউদ্দিন জানান, বিগত বছরের মতো এ বছরও মদনপুরে ক্যাপসিকামের ব্যাপক আবাদ হয়েছে। এখানকার শতাধিক চাষি ফসলটির আবাদ করছেন। তাদের সবার ক্ষেতেই এবছর ভালো ফলন হয়েছে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দস্তগীর সিকদার বলেন, চরের জমিতে এখন ক্যাপসিকামের সবুজ সমারোহ সকলের দৃষ্টি কাড়ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও প্রতিদিন এখানকার ক্যাপসিকাম ভোলা শহরসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।

“ভোলার চর” নামক এলাকার কৃষক আমানুল্লাহ মিয়া জানান, উর্বর মাটির কারণে তিনি প্রায় ২২ একর জমিতে এবার ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ১২ লাখ টাকা। সব খরচ পুষিয়ে এ পর্যন্ত তার লাভ হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। এখনো প্রায় ৩০/৩৫ লাখ টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন।

তিনি বলেন, ক্যাপসিকাম চাষে শ্রম কম লাগে। এটির নানা জাতের বীজ পাওয়া যায়। ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহর থেকে এ ফসলের বীজ সংগ্রহ করে সহজ প্রক্রিয়ায় এগুলো চাষ করা হয়। অন্যান্য বছরের চেয়ে অধিক ফলন হওয়ায় তিনি আনন্দিত।

ভোলা সদরের মেঘনা মধ্যবর্তী মাঝের চরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও ক্যাপসিকামের ব্যাপক ফলন হয়েছে। ওই চরের কৃষক আলাউদ্দিন ও আবুল বাশার জানিয়েছেন, তাদের ১৬ একর জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করতে খরচ হয়েছে ৭ লাখ টাকা। সব খরচ পুষিয়ে টার্গেটের চাইতেও বেশি লাভবান হয়েছেন। যার পরিমাণ কমপক্ষে ১২ লাখ টাকা। আরো যে পরিমান ক্যাপসিকাম রয়েছে তাতে ব্যাপক লাভবান হওয়ারও আশা করছেন তারা।

ক্যাপসিকাম চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বছরজুড়ে অন্যান্য ফসল চাষ করে যা আয় হয় তার চাইতে দ্বিগুণ লাভবান হয় মৌসুমের এক ফসল ক্যাপসিকাম দিয়ে। উচ্চ ফলনশীল ক্যাপসিকাম চাষে ব্যাপক লাভের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় জেলার কৃষকরা এখন ক্যাপসিকাম চাষের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।

এদিকে ক্যাপসিকাম চাষে আশাবাদী হলেও এ চাষে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় কৃষি অফিসের সহায়তা চান চাষিরা।

জেলা সদর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, ভোলার মাটি ও আবহাওয়া ক্যাপসিকাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ এলাকায় সারা বছরই ক্যাপসিকাম চাষ করা যায়। তবে শীত মৌসুম সর্বোত্তম সময়। দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণে ক্যাপসিকাম চাষ গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ ফসল চাষীদের সহায়তা করার কথাও বলেন এই কর্মকর্তা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবু হাসান ওয়ারিসুল কবির জানান, এ জেলায় মোট আবাদী জমির পরিমান ৪ লাখ ৫০ হাজার একর। এর মধ্যে জেলায় ২২০ একরের অধিক জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ হয়েছে। তাছাড়া এ বছর জেলায় ৯ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে অন্যান্য সবজির আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ২ হাজার হেক্টর সবজি আবাদ হয়েছে চরাঞ্চলে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park