1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
আমের কাঙ্খিত উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

আমের কাঙ্খিত উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ মে, ২০২৫
  • ১০৯ বার পঠিত

সুমন ইসলাম :

চলতি বছর আমের মুকুল আসার সময়ে বেশি কুয়াশা থাকায় মুকুল নষ্ট হওয়া,  পানির অভাবে গুটি নষ্ট হওয়ায় চলতি বছর আমের ফলন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও আশার বানি শুনিয়েছেন বাণিজ্যিক খামারীরা। ব্যক্তি পর্যায়ে এ বছর আমের ফলন কাঙ্খিত পর্যায়ে নেই। বাণিজ্যিক আম বাগানে পরিকল্পিত চাষ ও নীবির পরিচর্যার কারণে গাছে কোয়ান্টিটি কম হলেও ভালো ও বড় ফল উৎপাদন হয়েছে বলে জানা গেছে।

চলতি মৌসুমে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার ৩৪ হেক্টর জমিতে প্রায় ২৭ লাখ মেট্রিক টন আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। অন্যদিকে দেশ থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও দুটি ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সারা দেশে প্রায় ৫০০০ বাণিজ্যিক আমের বাগান রয়েছে। এসব বাগানে তুলনায় কিছুটা ভালো ফলন হলেও রফতানি বা ভালো দাম পাওয়া নিয়ে বরাবরের মতোই শঙ্কা রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশ আমাদের দেশ থেকে আম নিতে চাইলেও আমরা তাদের শর্ত পূরণ করতে না পারার কারণে ব্যর্থ হচ্ছি। তাদেও দেওয়া গাইডলাইন মেনে কাজ চলছে, হয়তো আমরাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম রফতানি করতে পারবো।

জানা যায়, যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, কানাডাসহ প্রতি বছর অন্তত ৩৮টি দেশে বাংলাদেশের আম রপ্তানি হয়ে থাকে। এবারই প্রথম চীনে আম রপ্তানি হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দু’দেশের সরকারের মধ্যে আম রপ্তানির বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানা যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, আবহাওয়াসহ বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয় ঠিক থাকলে এবার আমের উৎপাদন ভালো হবে। আর প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

চীনে আম রফতানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দু’দেশের মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া চীনে যেকোনো খাদ্যপণ্য রপ্তানি করার ক্ষেত্রে দেশটির জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে অব কাস্টম অব চায়না (জিএসিসি) থেকে নিবন্ধন নিতে হয়। জিএসিসি গত বছরের জুলাইয়ে আম রপ্তানির নিবন্ধন দিয়েছে। এখন চীনের আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানির বিভিন্ন পর্যায় যাচাই-বাছাই করছেন। হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট কেলিব্রেশন বা সঠিকতা, প্যাকেজিংসহ অনেক কিছুই যাচাই করছেন তারা। সব ঠিক থাকলে চীনে আম রপ্তানি দেশের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। আগামী জুন থেকেই আশা করা যায় চীনে আম রপ্তানি শুরু হতে পারে।

আরিফুর রহমান মনে করেন, আবহাওয়ার কারণে কিছু জায়গায় আমের উৎপাদন কম বা বেশি হবে। তবে বাণিজ্যিকভাবে যেসব কৃষক আম চাষ করেন, ব্যবস্থাপনায় তারা খুব তৎপর। তাদের ফলনে খুব একটা ব্যাঘাত ঘটবে না। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনকারীরা ঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করার কারণে তাদের সমস্যা হবে না। অনেকে বুঝে না বুঝে পেস্ট্রিসাইড স্প্রে করে। তাদের উৎপাদন কিছুটা কম হতে পারে। প্রয়োজন না বুঝে শুধু স্প্রে করলে হবে না। যারা ব্যবস্থাপনা করতে পেরেছে, তাদের ফলনে খুব একটা ব্যাঘাত ঘটবে না। কিন্তু যারা একটু উদাসীন, পানি দেয়ার প্রয়োজন হলেও দেননি অথবা নিউট্রিশন ম্যানেজমেন্ট ঠিকভাবে করেননি, গাছের বয়স অনুপাতে সার কিংবা প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার করেনি, তাদের হয়তো কিছুটা ক্ষতি হতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে আমের ফলন হয়েছিল ২ লাখ ২ হাজার ৯৬৮ হেক্টর জমিতে ২৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৯ মেট্রিক টন। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে তা বেড়ে হয় ২৭ লাখ ৭ হাজার ৪৫৯ মেট্রিক টন। গত অর্থ বছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ২ লাখ ৫ হাজার ৩৪ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়, আর উৎপাদন হয় ২৫ লাখ ৮ হাজার ৯৭৩ মেট্রিক টন আম।

এদিকে বিগত ৮ বছরে আম রপ্তানির হিসাবে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে আম রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৩০৯ মেট্রিক টন, পাঁচ বছর পর ২০২১-২২ অর্থ বছরে আম রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১৭৫৭ মেট্রিক টন। আর ২০২২-২৩ অর্থ বছরে আরও বৃদ্ধি পেয়ে আম রপ্তানি হয় ৩১ মেট্রিক টন। কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আম রপ্তানি কমে যায়, রপ্তানি হয় ১৩২১ মেট্রিক টন আম।

জানা গেছে, রাজশাহী, নওগাঁ, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের ১৫টি জেলায় সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয়। এবার আম উৎপাদন ও রপ্তানির টার্গেট আগের বছরের তুলনায় বেশি। এবার নতুন করে চীনে আম রপ্তানির ব্যাপারে সরকার আশাবাদী। ইতোমধ্যে চীনের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল সর্বোচ্চ আম উৎপাদনকারী এলাকা পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

রাজশাহীর পবা উপজেলার ইব্রাহিম টুটুল বলেন,  চলতি মৌসুমে তিনটি আমের বাগান লিজ নিয়েছেন তিনি। গতবারের তুলনায় এবার ফলন আশুনুরূপ নয়। আমগাছে পোকামাকড়ের বাড়তি উৎপাত দেখছেন। এতে প্রত্যাশিত ফলন না পাওয়ার শঙ্কা করছেন টুটুল। পানিস্বল্পতার কারণে আমগাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ ও কালচে দাগ পড়ছে। কীটনাশক স্প্রে করার পরও সুফল মিলছে না। আমও ঝরে পড়ছে বেশি।

রংপুর জেলার সাইদুল ইসলাম প্রায় সাত বিঘা আয়তনের বাগানে আম চাষ করেছেন। এ বছর নিজেরাই আম বাজারজাতের সিদ্ধান্ত নিলেও বিরূপ আবহাওয়ায় আমের ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। এ বছর গাছে মুকুল আসার আগে বৃষ্টির দরকার হয়। কিন্তু ওই সময় বৃষ্টি হয়নি। আবার যখন মুকুল সবেমাত্র গোটায় পরিণত হবে, তার আগে বৃষ্টি হওয়ায় আমের গোটা ঝরে পড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় আমের উৎপাদন বিঘ্নিত হয়। বিশেষ করে অসময়ের বৃষ্টিপাত এবং বেশি গরম মুকুল ও গুটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। চাষীরা আগেভাগে সঠিক ব্যবস্থা না নিলে ভালো ফলন পাওয়া কঠিন।

নওগাঁর পত্নীতলার চাষী শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে যেখানে যে বাগান থেকে ৫০০ মণ আম পেতাম, এখন মনে হচ্ছে সেখানে ৩০০ মণও হবে না। গাছে গুটি ধরলেও বেশির ভাগই ঝরে গেছে। আর যেগুলো রয়ে গেছে, সেগুলোতেও দাগ পড়ে যাচ্ছে।’

তবে ব্যক্তি পর্যায়ের ছোট চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকলেও বাণিজ্যিকভাবে বড় আমচাষীরা তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছেন। তারা সময়মতো সেচ, ছাঁটাই এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়ায় সচেষ্ট থাকেন। ফলে আবহাওয়ার কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও তা সামাল দিতে পারেন বলে জানান কৃষি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জলবায়ুর পরিবর্তন এখন বাস্তবতা। কৃষকদের তাই মৌসুমি পূর্বাভাস, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বৈচিত্র্যময় জাতের ওপর নির্ভর করে চাষ করতে হবে। আমচাষে জলবায়ু সহনশীল জাতের উন্নয়ন, চাষ পদ্ধতিতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ ও কৃষকদের প্রশিক্ষণই হতে পারে টেকসই সমাধান। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি ঋণ ও বীমা সুবিধা বাড়ানো গেলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।

চাপাইনবাবগঞ্চের সদর, বাঘা, নাচল, গোমস্তাপুর, মেহেরপুরের শিবগঞ্জের বাণিজ্যিক খামারীরা বলেন, চলতি বছর শুরুতে আমের মুকুল ভালোই ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই কুয়াশার কারণে ফাঙ্গাস আক্রমন করে। যারা এই সময় প্রয়োজনীয় ট্রিটমেন্ট করাতে পেরেছেন তারাই ফালো পলন পেয়েছেন। কিন্তু বাণিজ্যিক খামারীদের এবছর আগের তুলনায় বেশি খরচ হয়েছে। যদি আম রফতানি বা ভালো দাম না পান তাহলে অনেকেই লোকশান গুনতে হবে।

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার তিলনা ইউনিয়নের বাদ-দমদমা গ্রামের আম চাষি মফিজুল ইসলাম বলেন, নিজস্ব ৮ বিঘা জমিতে আম বাগান রয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত নেই। যার কারণে উকুন পোকার আক্রমণ অনেক বেশি। বাগানে কীটনাশক স্প্রে করেও পোকা তাড়ানো যাচ্ছে না। গত বছর বাগান থেকে আম বিক্রি করে সাড়ে ৬ লাখ টাকার মতো পেয়েছিলাম। শ্রমিক, কীটনাশক, পরিবহন এবং সেচ খরচসহ গত বছর প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছিল। এ বছর তীব্র তাপদাহের কারণে অধিকাংশ মুকুলই ঝরে গেছে। গতবারের তুলনায় বাগানে এ বছর আমের পরিমাণ অনেক কম। কিন্তু খরচ গত বছরের মতোই হবে। খরচ উঠাতে পারব কিনা এ নিয়ে শঙ্কায় আছি।

পোরশা উপজেলার গাঙ্গুরিয়া ইউনিয়নের চাচাইবাড়ী গ্রামের আমচাষি মতিউর রহমান বলেন, নিজস্ব ৯ বিঘা জমিতে আম্রপালি আমের বাগান রয়েছে। এবছরের মতো উকুন পোকা আগে কখনো দেখিনি। ৯ বিঘা বাগানে এখন পর্যন্ত কীটনাশক এবং অন্যান্য খরচ মিলায়ে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। বাগানের এই পরিস্থিতি দেখে খুব হতাশার মধ্যে আছি। আম উঠানোর আগ পর্যন্ত এখনো অনেক খরচ হবে। এই পরিমাণ আম দিয়ে খরচের টাকা উঠানোই কষ্টকর হয়ে যাবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park