কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক :
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কৃষি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া ঠিক নয়। বাজারকে বাজারের মতো চলতে দেওয়া উচিত। কৃষিতে ভালো করেছি, কিন্তু বিপ্লব হয়নি। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক ম্যাপিং করতে হবে। খাদ্য আমদানি নির্ভরতা কমাতে না পারলে বৈশ্বিক রাজনীতির শিকার হতে হবে। দেশে অনেক সংস্কার হয় কিন্তু জনগণ ফল পায়না। কৃষকের পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া নির্বুদ্ধিতা বলেও মনে করেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) আয়োজিত ৪ দিনব্যাপি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের ‘ কৃষি ও খাদ্যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএজেএফের সাধারণ সম্পাদক আবু খালিদের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন বিএজেএফ সভাপতি সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কৃষির বিশাল পরিবর্তন হচ্ছে। কৃষিতেও বিপ্লব সম্ভব। জিয়াউর রহমানের স্লোগান ছিলো উৎপাদনের রাজনীতি। তখন বিদেশে চাল রফতানি হয়েছে। কৃষির সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকার বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে। এই মাটিতে অনেক কিছু হয়। যা আমরা করতে পারিনা। সব কিছু মিলে এলায়েন্স করতে পারলে এগ্রিকালচারে রেভুলেশন আনতে পারবো।
আমির খসরু বলেন, কৃষি খাতে নীতি আছে, কিন্তু নীতি বাস্তবায়ন করার মানুষ কম। অনেক সংস্কার হয়, কিন্তু কৃষক এর সুফল পায়না। কৃষকের ফসল পঁচে নষ্ট নয়। এটিকে প্রক্রিয়াজাত করতে হবে। কৃষিতে বিনিয়োগ দরকার। প্রযুক্তির উন্নয়ন দরকার। দেশে এখনো সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান কৃষিতে। কৃষিই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। ১৮ মাসে আমরা এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, সেটির অন্যতম একটি খাত কৃষি৷
কৃষির অঞ্চলভিত্তিক ম্যাপিং দরকার উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে কৃষি। কোন অঞ্চলে কোন ফসল উৎপাদন করবো, বাংলাদেশের কৃষিতে তার একটি ম্যাপিং দরকার। যেখানে যে সম্ভাবনা আছে, সেই সম্ভাবনা খুজে বের করবো এবং অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটাবো। খাদ্য আমদানি নির্ভরতা কমাতে না পারলে বৈশ্বিক রাজনীতির শিকার হতে হবে মন্তব্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, খাদ্যে বিদেশের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। কারণ অনেক দেশ হঠাৎ করে কোন একটি পণ্যের রফতানি বন্ধ করে দেয়। আবার কোন একটি পণ্যে ট্যারিফ আরোপ করে। এ কারণে খাদ্যে বিদেশ নির্ভরতা কমাতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু কৃষক নয়, গ্রামে গঞ্জের কামার কুমাড়, তারা ভালো দাম পায়না। কৃষকসহ সর্বক্ষেত্রে ইন্ট্রিগ্রেশন করতে হবে৷ কৃষিপণ্যের বৈশ্বিক বাজারের সাথে আমাদের সংযোগ ঘটাতে হববে। কৃষককে সাহায্য করতে চাইলে অন্যভাবে সাপোর্ট দিতে হবে৷ কিন্তু কৃষি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া বোকামি সিদ্ধান্ত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু বলেন, আমরা বিরোধী দলে থাকলেও দেশের উন্নয়নে আমাদের কথা চলতে থাকবে। যতো রিফর্ম হয়েছে বিএনপির সময় হয়েছে। বিএনপি অব্যাহত থাকলে প্রবৃদ্ধি এতোদিনে ডাবল ডিজিট হয়ে যেতো।
তিনি বলেন,আমরা সহনশীল আচরণ করছি। দেশে গণতান্ত্রিক সরকার না থাকলে দেশ আগাবেনা। তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে জিয়াউর রহমান দেশের কৃষিকে রফতানির দিকে নিয়ে গেছেন। পল্লী বিদ্যুৎ গ্রামে নিয়ে গেছেন সেচের জন্যে। জিয়াউর রহমানের সময় চাল রফতানি হয়েছে। আমরা নির্বাচিত হলে দেশের কৃষিকে এগিয়ে নেবো।
প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী বলেন, কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। নতুবা দেশের উন্নয়ন ঘটবে না। মাছ ও মুরগি উৎপাদন আরো বাড়াতে হবে। হর্টিকালচারে আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হবে। তবে হর্টিকালচারে আমরা চীনের সহায়তা নিতে পারি। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে যতো ধরণের পরামর্শ আছে সেগুলো দিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আমার ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবো, কেনা-বেচার ক্ষেত্রে আমরা পরিমিত লাভ করবো। আমরা যদি পরিমিত লাভ না করি তাহলে আপনারা (সাংবাদিক) ধরিয়ে দেবেন। এভাবেই সবার সহযোগিতায় দেশের কৃষি খাতকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষিকে নেদারল্যান্ডের মতো মতো করতে হবে। বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডের কৃষিতে যে গ্যাপ তা আমাদের কমাতে হবে। মাছের উৎপাদন ব্যয় কমাতে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছি।খাদ্য ও আমিষে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে কৃষিতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।