1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
৪০ বছরের পুরনো বিধান কার্যকর হচ্ছে, ৬০ বিঘার বেশি কৃষিজমির মালিকানা - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

৪০ বছরের পুরনো বিধান কার্যকর হচ্ছে, ৬০ বিঘার বেশি কৃষিজমির মালিকানা

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৪
  • ৩০৬ বার পঠিত

সুমন ইসলাম:

৪০ বছর ধরে আইনে এ বিধান থাকলেও কোনো সরকার বাস্তবায়ন করেনি। একজন ব্যক্তি বা তার পরিবার ৬০ বিঘার বেশি কৃষিজমির মালিক হতে পারবেন না। ভূমি সংস্কার আইনের এমন বিধান বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। সম্প্রতি রাজধানীর ভুমি ভবনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এ তথ্য জানিয়েছেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আব্দুস সবুর মন্ডল।

সেমিনার থেকে জানানো হয়েছে, ৬০ বিঘার বেশি কৃষিজমির মালিকদের চিহ্নিত করার কাজ আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু হচ্ছে। একজন ব্যক্তি কিংবা কোনো পরিবারের অধীনে কী পরিমাণ জমি রয়েছে তা চিহ্নিত করার নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা এখনো সরকারের কাছে নেই। প্রাথমিকভাবে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়ার ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভিত্তিতে সীমার অতিরিক্ত জমির মালিকদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মালিকদের চিহ্নিত করার পর সীমার অতিরিক্ত জমি আইন অনুযায়ী কোন পদ্ধতিতে খাস করা হবে এবং অন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেটি নিয়ে এখনো চিন্তা-ভাবনা চলছে। একই সঙ্গে জমি নিবন্ধন, নামজারি পর্যায়ে সীমার বেশি জমির মালিকদের চিহ্নিত করা এবং পরিবারের সদস্যদের জমির তথ্যের জন্য স্থানীয় সরকারের সঙ্গে ডিজিটাল তথ্যের আন্তঃসংযোগের বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।
মনে করা হচ্ছে, দেশের অনেক ব্যক্তি ও পরিবারই ৬০ বিঘার বেশি জমির মালিক। আইন বাস্তবায়নে গেলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। তাই আপাতত চিহ্নিতকরণের দিকেই বেশি নজর দিতে চায় সরকার। যাতে তারা আর নতুন করে জমির মালিক না হতে পারে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ১৯৮৪ সালের ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশে (ল্যান্ড রিফর্মস অর্ডিন্যান্স) প্রথমবার ৬০ বিঘার বেশি জমি না রাখার বিধান যুক্ত করা হয়। গত বছর ১৯৮৪ সালের অধ্যাদেশ যুগোপযোগী করে ‘ভূমি সংস্কার আইন, ২০২৪’ প্রণয়ন করা হয়। এই আইনেও ওই বিধান বহাল রাখা হয়।

আইনে যা আছে:

‘ভূমি সংস্কার আইন, ২০২৩’-এ কৃষি ‘কৃষি ভূমি অর্জন সীমিতকরণ’ শিরোনামের ৪ ধারায় বলা হয়েছে- ৬০ প্রমিত বিঘার বেশি কৃষিজমির মালিক বা তার পরিবার হস্তান্তর, উত্তরাধিকার, দান বা অন্য কোনো উপায়ে নতুন কোনো কৃষিজমি অর্জন করতে পারবেন না।

তবে এ বিধান বিধি দিয়ে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী শিথিল করা যাবে। কোনো সমবায় সমিতির সব সদস্য তাদের ভূমির মালিকানা সমিতির অনুকূলে হস্তান্তর করে নিজেরা চাষাবাদ করলে; চা, কফি, রাবার বা অন্য কোনো ফলের বাগানের জন্য ব্যবহৃত ভূমি; কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান তার নিজস্ব কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদনের উদ্দেশ্যে ভূমি ব্যবহার করলে; কোনো কাজের জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় বিবেচিত এমন কোনো ভূমি; কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্য বা কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য বা শতভাগ রপ্তানিমুখী বিশেষায়িত শিল্পের জন্য সরকারের অনুমোদন নিয়ে ব্যবহৃত ভূমি; কোনো সংস্থার জনকল্যাণে সরকারের অনুমোদন নিয়ে ব্যবহৃত ভূমি; কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের শিল্প-কারখানা স্থাপন বা সম্প্রসারণে সরকারের অনুমোদনে ব্যবহৃত ভূমি এবং ওয়াকফ, দেবোত্তর বা ধর্মীয় ট্রাস্টের ক্ষেত্রে এর মালিকানাধীন ভূমির সম্পূর্ণ আয় ধর্মীয় বা দাতব্য কাজে ব্যয় হলে ওই বিধান (৬০ বিঘার বেশি জমির মালিক না হাওয়া) শিথিল হবে।

যদি কোনো ভূমির মালিক এ ধারার বিধান লঙ্ঘন করে ক্রয়সূত্রে কোনো নতুন কৃষিভূমি অর্জন করেন, তাহলে যে পরিমাণ ভূমি ৬০ বিঘার বেশি হবে তা সরকারের অনুকূলে বিধি নির্ধারিত পদ্ধতিতে সমর্পিত হবে এবং সমর্পিত ভূমির মূল্য বাবদ কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। তবে শর্ত থাকে যে, উত্তরাধিকার, দান বা উইলের মাধ্যমে অর্জিত ভূমির ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।

উত্তরাধিকার সূত্রে অর্জিত ভূমি ৬০ বিঘার বেশি হলে ভূমির মালিক তার পছন্দ অনুযায়ী ৬০ বিঘা ভূমি রাখতে পারবেন এবং অবশিষ্ট ভূমি সরকার বিধি নির্ধারিত পদ্ধতিতে ক্ষতিপূরণ দিয়ে খাস করতে পারবে বলেও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন, ‘আইনে আছে কেউ ৬০ ব্ঘিার বেশি কৃষিজমির মালিক হতে পারবে না। অনেকদিন আগে থেকেই এটি আইনে আছে। এতদিন এটি বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। কোন পদ্ধতিতে আমরা এ আইনটি বাস্তবায়ন করবো সেটা নিয়ে আমাদের অফিসাররা কাজ করছেন।’

তিনি বলেন, ‘আইনে সীমার বেশি জমি খাস করার কথা বলা হয়েছে। জমি খাস করতে পারে এসিল্যান্ডরা (সহকারী কমিশনার-ভূমি)। কিন্তু কোনো কোনো ব্যক্তির অধিক জমি অনেক সময় এক এসিল্যান্ডের অধীনে থাকে না। তাই এটি বাস্তবায়নের আইনি প্রক্রিয়াটা কী হবে, সেটি নিয়ে আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি।’

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটালাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু (৬০ বিঘার বেশি জমি মালিকদের) করতে চাই। প্রথমে আমরা ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করবো। এরপর পরিবারের দিকে যাবো, তবে এটাতে সময় লাগবে। আমরা এটা করবো এনআইডির ভিত্তিতে। কারণ ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থায় এটা ধরা সম্ভব। তবে এখতিয়ারের বেশি জমি থাকা কেউ যদি তার এনআইডি দিয়ে ভূমি উন্নয়ন কর না দেয় তবে আমরা তাকে ধরতে পারবো না।’

তিনি বলেন, এটা আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আইনটি আমরা বাস্তবায়ন করবো। শনাক্ত করার জন্য ব্যবস্থা গড়ে তুলছি।

অতিরিক্ত সচিব বলেন,কারও ৬০ বিঘার বেশি জমি পেলে আটকে দেবো। এরপর তার পরিবারের সদস্য যেমন স্ত্রী, সন্তানদের এনআইডি দিয়েও দেখবো কতটুকু জমি আছে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে আর নতুন করে কোনো জমি কিনতে পারবে না। তাকে আমরা আটকে দেবো।’
‘আমাদের যখন ভূমি ডাটা ব্যাংক হয়ে যাবে, তখন সিস্টেম থেকে বলে দেবে কে কে ৬০ বিঘার সীমা অতিক্রম করেছে, লাল বাতি জ্বলবে, তাদের আর নতুন করে নামজারি হবে না’ বলেন এমদাদুল হক চৌধুরী।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park