গাজীপুরের সাফারি পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে জানিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, এ ঘটনায় যারা দায়ী থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে পরিচর্যার অভাবে যেন কোনো বন্যপ্রাণী মারা না যায়, সেদিকে নজর দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্ক পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সাফারি পার্ক থেকে বন্যপ্রাণী চুরি হলে সেটিকে ব্যর্থতা বলা যায়। মারা গেলেও বলা হচ্ছে, চুরি হয়েছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পরিচর্যার অভাবে যেন কোনো বন্যপ্রাণী মারা না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সাফারি পার্ক থেকে যে দুটি লেমুর চুরি হয়েছে, সেগুলো বাংলাদেশে কীভাবে এসেছে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য ছিল না।
যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, লেমুর দুটি বাংলাদেশে আসার বিষয়টিও অবৈধ ছিল। পরে সেগুলো সাফারি পার্ক থেকে চুরি হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
মন্ত্রী বলেন, একটি জাতীয় উদ্যান স্থাপনের উদ্দেশ্য থাকে পরিবেশ রক্ষা করা। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জাতীয় উদ্যানের দায়িত্ব। এর সঙ্গে মানুষের বিনোদনের বিষয়টিও জড়িত।
তিনি বলেন, বর্তমানে জাতীয় উদ্যানে পিকনিক বন্ধ রয়েছে। জাতীয় উদ্যান পরিচালনার ক্ষেত্রে মাইক বাজানো এবং রান্না ও খাওয়া-দাওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হবে। যাতে মানুষ সন্তানদের নিয়ে বিনোদনের জন্য জাতীয় উদ্যান ব্যবহার করতে পারেন, আবার পরিবেশ ও প্রতিবেশও সুরক্ষিত থাকে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, গাজীপুর সাফারি পার্কে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এ পার্কে আরও বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণী আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল মামুন, সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ইকবাল মাহমুদ চৌধুরী ও সহকারী বন সংরক্ষক শামসুল আরেফিন প্রমুখ।