কৃষি সংবাদ ডেস্ক :
প্রায় ৩.৭ কোটি বছরের পুরনো এই তিমির কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছে মিশরের ওয়াদি আল হিতান থেকে। আজ যেখানে ধূ ধূ মরুভূমি, কোটি বছর পূর্বে সেখানেই খেলা করত নীল জলরাশি। বাসিলোসরাস নামের বৃহদাকৃতির এই তিমিগুলো প্রজাতিভেদে ৫০-৬৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতো, ওজন হতো ৫,৮০০-৬,৫০০ কেজির মতো।
মিসরের জীবাশ্মবিদরা বহু বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া তিমির প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন। চার কোটি ১০ লাখ বছর আগে বিচরণ ছিল এই প্রজাতির। তিমির এই প্রজাতি তখন মাত্রই স্থলভাগ থেকে সাগরে নিজেদের অভিযোজন করেছে। কমিউনিকেশনস বায়োলজিতে প্রকাশিত রিভিউয়ের সহ-লেখক ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার এরিক সেফার্ট বলেছেন, মিসরের পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমির জীবাশ্মসংবলিত স্থানগুলো দীর্ঘকাল ধরে তিমির প্রাথমিক বিবর্তন এবং পানিতে বসবাসের জন্য সম্পূর্ণ রূপান্তর বোঝার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।
মিসরের বালক রাজা তুতেনখামুন এবং মিসরের ফায়ুম মরূদ্যানের ওয়াদি আল-রায়ান সুরক্ষিত অঞ্চলের নামানুসারে তিমির ওই প্রজাতিকে ‘টুটসেটাস রায়ানেনসিস’ নামকরণ করা হয়েছে।
মিশর বলতে আমাদের সামনে ভেসে ওঠে পিরামিড, মমি, এবং অবশ্যই সাহারা মরুভূমি। পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক এই অঞ্চলে জীবনের প্রায় দেখা মেলে না বললেই চলে। কিন্তু এই বিস্তীর্ণ মরুভূমির একটা অংশেই পাওয়া গেছে বিশালাকৃতি সব তিমির জীবাশ্ম। স্থানীয় ভাষায় যে এলাকার নাম ‘ওয়াদি-অল হিতান’ বা ‘ভ্যালি অফ হোয়েলস’।
১৯০২ সালে প্রথম এখানে প্রাচীন তিমির জীবাশ্মের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। প্রায় ৬৫ ফুট লম্বা একটি জীবাশ্মও পাওয়া গিয়েছে এখানে, যেটার বয়স আনুমানিক ৩.৭ কোটি বছর। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, বেশ কয়েকটি তিমির জীবাশ্মে পায়ের অস্তিত্বও পাওয়া গেছে! কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় মরুভূমিতে কিভাবে জলজ প্রাণীদের জীবাশ্ম পাওয়া যাচ্ছে?
গবেষকদের মতে, আনুমানিক পাঁচ কোটি বছর আগে এই অঞ্চলটা তেথিস সাগরের মধ্যে ছিল। পরবর্তীকালে যখন মহাদেশগুলি তৈরি হল, তখন এই অঞ্চলটা সরে যায়। ফলে আস্তে আস্তে শুকিয়ে যায় এলাকাটি। সেই সময় এখানে যেসব জলজ প্রাণী ছিল, তারাও চাপা পড়ে যায়।
সূত্র : এএফপি