1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
ভেনামি চিংড়ি চাষে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকাতা - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

ভেনামি চিংড়ি চাষে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকাতা

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
  • ২৬৭ বার পঠিত

সুমন ইসলাম :

#দ্রুত সময়ে ভেনামি চাষের প্রতিবন্ধকতা দূর হবে: মহাপরিচালক

#১০০ দিনে বিক্রির উপযোগী

#গলদা বাগদার চেয়ে ১৫ গুণ বেশি ফলন

#চাষে ৩৬ টি প্রতিষ্ঠান ও ৭ টি হ্যাচারি অনুমোদন

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপি চিংড়ি মাছের কদর বেশি। সাদা সোনা হিসেবে খ্যাত আমাদের চিংড়ি শিল্প এখন মৃতপ্রায়। দামে কম এবং উৎপাদন বেশি হওয়ার কারণে মৎস্য খাতে এখন আলোচিত নাম ‘ভেনামি চিংড়ি’। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে ভেনামির হাত ধরে আসবে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা। হিমায়িত মৎস্য রপ্তানিতে গলদা ও বাগদা আধিপত্য থাকলেও বিশ্ববাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এখন ‘ভেনামি’ চাষ সময়ের দাবি। সরকারিভাবে পরীক্ষামূলক চাষে অভাবনীয় সাফল্য আসায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৎস্য চাষিদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে চাষাবাদ সম্প্রসারণ থেকে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজার, সাতক্ষীরা এবং খুলনায় সীমিত সংখ্যক খামারি অতি নিবিড় পরিচর্যার মধ্য দিয়ে সিমীত আকারে ভেনামি চাষ করছে। প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, পোনার স্বল্পতা, খাবার আমদানি এবং নিবিড় পরিচর্যা বিষয়ে সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় খামারি পর্যায়ে ব্যাপক আকারে শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের মাহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনামি চিংড়ির বেশ কদর থাকলেও চাষের বিষয়ে কিছু প্রতিবন্ধকতা ও বিধিনিষেধ থাকার কারণে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত দেশে ৩৬ টি প্রতিষ্ঠানকে চিংড়ি চাষের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৭ টি প্রতিষ্ঠানকে হ্যাচারি স্থাপনের অনুমোদন পেলেও এই মুহুর্তে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমেষ করে যারা ব্রুড চিংড়ি ও খাদ্য আমাদানির করতে চাচ্ছেন তাদের আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।

চাষের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভেনামি চাষে কোনো ধরনের সমস্যা বা ক্ষতিকর কোনো বিষয় পাওয়া যায়নি। বেশ সাফল্য দেখা দেছে। তবে আমাদের পরিবেশের জন্য কতোটা স্মঞ্জস্য বা প্রতিবন্ধক সেটা নির্ধারণে গবেষণা করছে মৎস্য গবেষণা ইনন্টিটিউট। তিবে তিনি আশা করেন দ্রুত সময়ের মধ্যে গবেষণা প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেয়া হবে।

ভেনামি চাষ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, সরকারি অনুমোদন বা নিয়স্ত্রন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানই ভেনামি পোনা উৎপাদন এবং চাষাবাদ করার সুযোগ নাই। কক্সবাজার তথ্য দেশে প্রথম ভেনামি চিংিড়ির চাষ শুরু করে সীমার্ক (বিডি) লিমিটেড । তারা অতিনিবিড় চাষে দেখেছে প্রতি শতাংশে ১০০০ কেজি উৎপাদন করা সম্ভব। সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি হেক্টরে যেখানে গলদা ও বাগদা মাত্র ৩০০-৫০০ কেজি বাগদা চিংড়ি পাওয়া যায়, সেখানে ভেনামি চিংড়ি চাষে প্রতি হেক্টরে ৭,০০০-৮,০০০ কেজি (এবং অতি-নিবিড় পদ্ধতিতে ৮০ টনের বেশি) উৎপাদন সম্ভব। বাংলাদেশে এর বাণিজ্যিক অনুমোদনের পর বিপুল চাহিদা তৈরি হলেও বর্তমানে পোনা ও খাবার আমদানিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যপকভাবো উৎপাদন করা যাচেআছ না। কক্সবাজারের উখিয়ায় মেরিন ড্রাইভের পাশে সীমার্ক (বিডি) লিমিটেড ১২ একরের খামারে ৩২টি নার্সারি এবং ১৬টি কোয়ারেন্টিন পুকুর তৈরি করেছে।
দেশে ভেনামি পোনা উৎপাদন প্রসঙ্গে এই জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, সরকারি কিছিু বিধি নিষেধ থাকায় সারা দেশে ব্যাপকভাবে চাষ ও পোনা উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে এই চিংড়ি চাষ করতে হলে সরকারি অনুমোদন নিতে হয়। সম্পূর্ণ বায়োসিকিউরিটি মেনি এই চাষ করতে হয়। তা না হলে কাঙ্খিত উৎপাদন না পাওয়্রা পাশাপাশি অন্যকিছিু সমস্যও হতে পারে। তবে এই মুহুর্তে কক্সবাজারের কলাতলিতে নিরিবিলি হ্যাচারি থাইল্যান্ড থেকে আনা ব্রুড চিংড়ির মাধ্যমে ভেনামির পোনা উৎপাদন করছে।

নিরিবিলি হ্যাচারির ম্যানেজার সুজন বড়ুয়া বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষনিক মনিটরিংয়ের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালে থাইল্যান্ড থেকে ৩০০ ভেনামি ব্রুডমাছ সংগ্রহ করে পোনা উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিমাসে ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি পর্যন্ত পোনা সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে চাহিদা বেশি থাকলে সে অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে সিমিীত চাহিদার কারণে অনেকে এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছেনা। পাশাপাশি সরকারি বিধিনিষেধ থাকায়ও অনেকে চাইলেও চাষ করতে পারছেন না।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সহায়তায় সরেজমিন নিরিবিলি হ্যাচারি ঘুরে দেখা গেছে, ইচ্ছে করলেই কেউ যেতে পারে না হ্যাচারিতে। গাড়ি প্রবেশেও রয়েছে বিধিনিষেধ। গাড়িকে সম্পূর্ণ জীবানুমুক্ত করার পর ভিতরে প্রবেশে করলাম আমরা। হাতের ডান পাশে দেখা গেলো থরে থরে সাজানো ককশিটের বক্স, ভিতরে প্রবেশ করতেই নিজেকে জীবানু মুক্ত করেতে হলো। চারটি ভাগে ভাগ করে চলছে কর্মযজ্ঞ। একপাশে ব্যবহার উপযোগী করে পানি তৈরি করা হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে ডিম থেকে রেনু উৎপাদন, আর একপাশে তৈরি হচ্ছে চিংড়ির খাবার, এক বারে সাগর পাড়েরর অংশে পালন হচ্ছে ব্রুড মাছ।

উৎপাদন প্রসঙ্গে কক্সবাজারের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা আরো বলেন, গলদা ও বাগদার চেয়েও বহুগুণ বেশি উৎপাদনশীল এই ভেনামি চিংড়ি। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাগদা চিংড়ির উৎপাদন ক্ষমতা তুলনামূলক কম। যেখানে সাধারণ পদ্ধতিতে এক হেক্টর জমিতে বাগদা উৎপাদন হয় মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ কেজি, সেখানে ভেনামি চিংড়ির উৎপাদন নিবিড় চাষ পদ্ধতিতে প্রতি হেক্টরে ১০ থেকে ৩০ টন পর্যন্ত উৎপাদন করা সম্ভব। সহজ কথায়, ভেনামি চিংড়ি বাগদার তুলনায় অন্তত ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশি ফলন দিতে সক্ষম। এছাড়া গলদা বা বাগদা বড় হতে যেখানে ৫-৬ মাস সময় নেয়, সেখানে ভেনামি মাত্র ৩ মাসের মধ্যেই বাজারজাত করার উপযোগী হয়ে যায়। অর্থাৎ, একই সময়ে একজন চাষি বছরে দুই থেকে তিনবার ফসল ঘরে তুলতে পারেন। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হয়। বর্তমানে এই খাতের রপ্তানি আয় নিম্নমুখী। ভেনামি চিংড়ির বাণিজ্যিক চাষ শুরু হলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চিংড়ি প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। খুলনার পাইকগাছায় মৎস্য অধিদপ্তরের একটি পাইলট প্রকল্পে দেখা গেছে, মাত্র ১০০ দিনের ব্যবধানে এক হেক্টর জমি থেকে প্রায় ৯ টন ভেনামি আহরণ করা সম্ভব হয়েছে।

বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিষয়ে মৎস্য মহাপরিচালক জানান, বর্তমানে বিশ্ববাজারে চিংড়ি বাণিজ্যের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই দখল করে আছে ভেনামি। ভারত, ভিয়েতনাম ও ইকুয়েডর, থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো এই চিংড়ি চাষ করে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করছে। বিপরীতে, বাংলাদেশ শুধু বাগদার ওপর নির্ভর করায় বিশ্ববাজারের বড় একটি অংশ হারিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের আড়াই লাখ হেক্টর চিংড়ি ঘেরের মাত্র ৩০ শতাংশেও যদি ভেনামি চাষ শুরু করা যায়, তবে বছরে মৎস্য খাত থেকে রপ্তানি আয় ২ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এটি বর্তমান রপ্তানি আয়ের চেয়ে অন্তত চার গুণ বেশি। বিশ্ববাজারে ভেনামির চাহিদা প্রতি বছর গড়ে ৭ শতাংশ হারে বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, পরিবেশের প্রশ্নে ভেনামি চিংড়ি অনেক বেশি টেকসই। এই চিংড়ি চাষের জন্য আধুনিক ‘বায়োসিকিউরড’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এতে পুকুরের চারপাশ এবং তলদেশ পলিথিন বা কংক্রিট দিয়ে আবৃত থাকে, ফলে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয় না এবং বাইরের কোনো রোগজীবাণু ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। এছাড়া ভেনামি চিংড়ি পানির উপরের স্তরে নয়, বরং মধ্যস্তরে বিচরণ করে এবং খাবার নষ্ট কম করে, যা পানির দূষণ কমাতে সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় দিক হলো, ভেনামি চাষে পানির অপচয় কম হয় এবং একই পানি বারবার শোধন করে ব্যবহার করা সম্ভব।

মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক খন্দকার মাহবুবুল হক বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশ ভেনামি চাষে অগ্রসর হলেও আমাদেও দেশে নানা প্রতিবন্ধতরার কারণে অগ্রসর হতে পারেনি। এ জন্য প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। তা না হলে সম্ভাবনাময় এই ফসলের সুবিধা পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, এই ভেনামির জন্য সরকারিভাবে একটি দ্বীপ বা এলাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। যেখানে হ্যাচারি থেকে শুরু করে সকল সুযোগ সুবিধা থাকবে। প্রয়োজনে একই জায়গা থেকে রফতানির ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন হলে বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জানা গেছে, গলদা ও বাগদা হেক্টর প্রতি উৎপাদন ৪০০-৫০০ কেজির বিপরীতে ১০-২০ হাজার কেজি, বিক্রির উপযোগী গলদা-বাগদায় ১৫০-১৮০ দিন, সেক্ষেত্রে ভেনামি ৯০ – ১০০ দিন, বেঁচে থাকার হার গলদা-বাগদা ৬০-৬৫শতাংশ, অপরদিকে ৯০- ৯৫শতাংশ, বিশ্ববাজারে চাহিদার ক্ষেত্রে গলদা-বাগদা ১০-১২শতাংশ, ভেনামি ৮০-৮৫ শতাংশ। প্রতি বর্গমিটারে পোনা ছাড়া যায় ৫-১০টি সেক্ষেত্রে ভেনামি ৮০-১৫০টি পর্যন্ত।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park