1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
বৈশাখ বরণে মঙ্গল নয়, আনন্দ শোভাযাত্রা - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

বৈশাখ বরণে মঙ্গল নয়, আনন্দ শোভাযাত্রা

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৩৭ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:

বাংলা নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে যে শোভাযাত্রা বের হয়, তার নাম বদলেছে। আগে এর নাম ছিল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। বৈশাখ বরণের নাম ৩০ বছর পরে আবার আগের রূপে ফিরেছে। গতকাল চারুকলা অনুষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নববর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কাজী আজাহারুল ইসলাম শেখ এ কথা জানান।

অপরদিকে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ সালের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখে আনন্দ শোভাযাত্রার মোটিফে জাতীয় প্রতীক বাঘ, ইলিশ মাছের পাশাপাশি থাকছে জুলাইয়ের ছাপ। মোটিফে স্থান পাবে ফ্যাসিবাদের ভয়াল মুখাকৃতি ও মুগ্ধের পানির বোতল।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাপক এই আয়োজনের লক্ষ্যে শোভাযাত্রার নামকরণ করা হয়েছে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’, যার ছায়াতলে দেশের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটবে। প্রতিফলিত হবে বর্তমানের সব শ্রেণির মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ফুটে উঠবে শোভাযাত্রার প্রকৃত আনন্দ। তিনি বলেন, এবারের নববর্ষ উদযাপনে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে এক নতুন এবং অগ্রসর দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে। একই ভূখণ্ডে বসবাসরত সব ভাষা ও সংস্কৃতির অশীজনেরা একসঙ্গে ঐকতান করতে যাচ্ছেন।

এবারের নববর্ষ বাংলাদেশি প্রতিটি মানুষের। এবারের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষে ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’। কাজী আজাহারুল ইসলাম শেখ বলেন, এ বছরের আয়োজনকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। বাক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা এবং মননের মুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে অন্ধকার কাল থেকে উত্তীর্ণ হবার বার্তা দিতে হবে।
তিনি বলেন, সংস্কৃতির লক্ষ্যই হচ্ছে মানবিক ও উদার একটি সমাজ বা রাষ্ট্র কাঠামো বিনির্মাণ করা। এবারের বৈশাখ হবে সবার। আমাদের ভূখণ্ডে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠী এবারের বৈশাখ বরণের অংশীদারত্ব অর্জন করেছে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড় থেকে সমতল, সবাই একসঙ্গে বর্ষবরণ উদযাপন করব। এবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে একপেশে সংস্কৃতি চর্চার সংকীর্ণতা থেকে বের হয়ে আমরা বাংলাদেশের সংস্কৃতির উদার ও শুদ্ধ চর্চার দিকে অগ্রসর হতে পারব বলে আশা করছি।

শোভাযাত্রার উপ-কমিটির সদস্য-সচিব অধ্যাপক এ এ এম কাওসার হাসান জানান, এবছরের শোভাযাত্রায় বড় সাতটি মোটিভ থাকবে। এরমধ্যে ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি, কাঠের বাঘ, ইলিশ মাছ, শান্তির পায়রা, পালকি, মুগ্ধের পানির বোতল এবং তরমুজের ফালি রয়েছে। মাঝারি মোটিফগুলোর মধ্যে থাকবে সুলতানি ও মুঘল আমলের ১০টি মুখোশ, রঙিন চরকি ২০টি, তালপাতার সেপাই ৮টি, তুহিন পাখি ৫ টি, পাখা ৪ টি, ঘোড়া ২০টি, লোকজ চিত্রাবলির ক্যানভাস ১০০টি। এছাড়া ছোট মোটিফগুলোর মধ্যে ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি থাকবে ৮০টি, বাঘের মাথা ২০০টি, পলো ১০টি, মাছের চাই ৬টি, মাথাল ২০টি, মাথাল ২০টি, লাঙলল ৫টি, মাছের ডোলা ৫টি। এছাড়াও এ বছর ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মুসলমানদের লড়াই সংগ্রামের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তরমুজের ফালি মোটিফ হিসেবে রাখা হয়েছে। তরমুজ ফিলিস্তিনিদের কাছে প্রতিরোধ ও অধ্যাবসায়ের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

তিনি জানান, এবছরের বর্ষবরণে পাহাড়ি ও সমতলের ২৮ জাতিগোষ্ঠীর ৪২৬ জন শিল্পী অংশ নেবেন। এরমধ্যে ম্রো, মারমা, লুসাই, বম, খিয়াং, চাকমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়া, রাজোয়াড়, সাঁওতাল, মাহালী, কোল, মালপাহাড়িয়া, হাজংসহ একাধিক জাতিগোষ্ঠী রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, এবারের শোভাযাত্রা চারুকলা অনুষদ থেকে শাহবাগ হয়ে রাজু ভাস্কর্য, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর হয়ে পুনরায় চারুকলায় ফিরে আসবে। শোভাযাত্রার দিন ১৪ এপ্রিল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের শাহবাগ ও টিএসসি স্টেশন বন্ধ থাকবে। এই সময়ে এই দুই স্টেশন দিয়ে কোনো যাত্রী উঠতে বা বের হতে পারবেন না।

এদিন বাংলামোটর, বারডেম এবং মৎস্য ভবন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে সড়ক ব্লক থাকবে। শোভাযাত্রা শুরুর পর সাধারণ জনগণ এসব স্থান দিয়ে শোভাযাত্রায় যোগ দিতে পারবেন। র‌্যালির সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা কালিমন্দির, রাজু ভাস্কর্যের পেছনে ও ছবির হাটের গেট বন্ধ থাকবে।

সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, ১৯৮৯ সালে প্রথম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়। পরে ১৯৯৫ সালে এটি আনন্দ শোভাযাত্রা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা নাম পায়। নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা। অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম বলেন, ১৯৮৯ সালে বর্ষবরণ উৎসবের এই চর্চা শুরু হয়। আমরা তখন এখানকার ছাত্র ছিলাম। পরে ‘মঙ্গল’ শোভাযাত্রা হিসেবে নাম পরিবর্তন হয়। তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালের আয়োজনে স্বতস্ফূর্ততা কতটা ছিল, আর পরে কী হয়েছে, তা আপনারা জানেন। সে কারণে আমরা এটিকে পরিবর্তন বলছি না, আমরা বলছি পুনরুদ্ধার।

কোনো পক্ষের চাপে তারা এটি করেছেন কি না জানতে চাইলে ডিন বলেন, চাপের প্রসঙ্গটা আমরা ওভাবে মূল্যায়ন করতে চাই না। প্রতি বছর বর্ষবরণ নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। আমাদের এই ভূখণ্ডের প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষ কীসের মধ্যে দাঁড়াবে, সে জায়গাটা আসলে বিবেচ্য। মঙ্গল শব্দের কোনো শব্দগত ত্রুটি আমি দেখছি না। তবে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা শব্দটিকে এমনভাবে ব্যবহার করেছে যে সমাজের মধ্যে এ নিয়ে একটি বাজে অনুভূতি কাজ করছে। আমরা অতীতে ফিরে যেতে চাই, যেখানে সবার স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল, যেখানে সংস্কৃতির মধ্যে কোনো রাজনৈতিক আগ্রাসন ছিল না।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, উদ্যাপনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ, উদযাপনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্যসচিব ও চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ, শোভাযাত্রার উপ-কমিটির সদস্য-সচিব অধ্যাপক এ এ এম কাওসার হাসান, প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি ও উপ-কমিটিগুলোর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park