কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে কৃষকদের সবচেয়ে বেশি যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তা হলো সার। চাহিদার তুলনায় পর্যন্ত মজুত না থাকার অজুহাতে বিভিন্ন সময়ে সার ডিলারদের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েন সাধারণ কৃষকরা। যার প্রভাব পড়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। এমন পরিস্থিতিতে সারের পর্যাপ্ত মজুদ গড়তে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২০১৭ সালে দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩টি বাফার গোডাউন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২০১৯ সালে প্রকল্পটির সমাপ্তকাল নির্ধারণ হলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পটি শেষ করা যায়নি। উপরন্তু ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব সার সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩টি নতুন বাফার গোডাউন নির্মাণ (৩য় সংশোধিত ৪র্থ বার বৃদ্ধি) অনুমোদেন পেয়েছে।
সূত্র জানায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ৫৪৩ কোটি ৯৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ধান উৎপাদনে শীর্ষে থাকা ১৩টি জেলায় সার মজুতে বাফার গোডাউন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এগুলো হলো- পঞ্চগড়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শেরপুর, যশোর, গাইবান্ধা, নীলফামারি, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, পাবনা, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, বরিশাল ও সুনামগঞ্জ।
সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এই গোডাউনের নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল ভরা মৌসুমে সারের মজুত বৃদ্ধি করে সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণ ও বিতরণ এবং ডিলারের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের কাছে সার পৌঁছানো। এ ছাড়া প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো মধ্যে ছিল- গোডাউন নির্মাণে আউটসোর্সিং ও ভূমি অধিগ্রহণ, যানবাহন ভাড়া, বিশেষজ্ঞ সেবা ও সুপারভিশন, ১৩টি বাফার গোডাউন নির্মাণ, সাইট অফিস নির্মাণ ও লিয়াজোঁ অফিস ডেকোরেশন, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ ক্রয় (সাইট অফিস ও লিয়াজোঁ অফিস) এবং সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল নির্মাণ।
প্রকল্পটি সম্পর্কে জানা যায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো একনেক সভায় অনুমোদন হয়। এরপর প্রকল্প শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আরও ৬ মাস বাড়িয়ে ১ম বারের মতো সংশোধনী আনা হয় এবং তা অনুমোদন হয়। এরপর দ্বিতীয় সংশোধনীতে মেয়াদ আরও একবছর বাড়িয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব ও অনুমোদন করা হয়। ৩য় বার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত।
কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকল্পটি শেষ করতে না পারায় চতুর্থ দফায় আগামী বছরের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। চলতি বছরের আরএডিপিতেও প্রকল্পটির অনুকূলে ৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে সরকারের তরফে ৪৫ কোটি টাকা এবং আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা অর্থায়ন ছিল।
৪র্থ বার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকদের দোরগোড়ায় দ্রুততার সঙ্গে স্বল্প খরচে সার পৌঁছানো সম্ভব হবে। কৃষকের অধিক ফসল উৎপাদনে সক্ষম হবে এবং দেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে। উপরন্তু এই গোডাউনগুলোতে পর্যাপ্ত সার নিরাপদে সংরক্ষণ করা যাবে, যার মাধ্যমে সংকটকালে কৃষকের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
এমন প্রেক্ষাপটে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিসিআইসি’র মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩টি নতুন বাফার গোডাউন নির্মাণ (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে আইএমইডি’র শর্তগুলো প্রতিপালন সাপেক্ষে বাস্তবায়ন মেয়াদ ১ বছর বৃদ্ধি অর্থাৎ জানুয়ারি ২০১৭ থেকে জুন ২০২৫ এর পরিবর্তে জানুয়ারি ২০১৭ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একনেকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।