1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
নির্বিচারে চলছে শামুক নিধন, বিপর্যয়ের মুখে জীববৈচিত্র্য - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

নির্বিচারে চলছে শামুক নিধন, বিপর্যয়ের মুখে জীববৈচিত্র্য

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৫ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি, পাবনা:

বর্ষার পানি নামতেই শুরু হয়েছে নির্বিচারে শামুক নিধন। শুধু হাঁস বা মাছের খামারের চাহিদা মেটানোর জন্য নয়, বাণিজ্যিক বা অতিরিক্ত অর্থ আয়ের উৎস হিসেবে নির্বিচারে নিধন করা হচ্ছে শামুক। এতে পরিবেশের জীববৈচিত্র বিপর্যয়ের শঙ্কা বাড়ছে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাঁস বা মাছের খামারে শামুকের চাহিদা ব্যাপক। ফলে বিল পাড়ের বাসিন্দারা নিজেদের হাঁস বা মাছের খামারে চাহিদা মেটানোর জন্য শুরুতে শামুক শিকার করলেও এখন সেটি ব্যবসা বা আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। সংগ্রহকারীদের বড় অংশ জানেন না শামুক শিকার, বেচাকেনা বা বিপণন সংক্রান্ত কোনো আইন। অবাধে শামুক শিকার করে বেচাকেনা চলছে পুরোদমে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমের মাঝামাঝি সময় থেকে পানি নেমে যাওয়া (পানি নিচু জায়গায় যাওয়া) পর্যন্ত শামুক শিকার হয়। পাবনার চাটমোহর উপজেলার চলনবিল, সাঁথিয়া উপজেলার মুক্তার বিল, সোনই বিল, বিল গাংভাঙ্গা, গজারিয়া, আড়িয়াদাহ বিল, বাসটিয়াখালি, বেড়া উপজেলার জোরদহ বিল, কাজলকুড়া, ধলাই, ট্যাংরাগাড়ি, বক্কারের বিলসহ অন্তত ১০-১৫টি খাল ও বিল থেকে হাজার হাজার মণ শামুক শিকার করেন শিকারিরা। পরে সেগুলো সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন হাঁস ও মাছের খামারে। এমনকী পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসব শামুক কিনে ট্রাকে করে খুলনাসহ বেশকিছু অঞ্চলে সরবরাহ করেন। এতে করে খাল-বিলে কমেছে শামুকের পরিমাণ। ফলে বিগত বছরের তুলনায় শামুক কম পাচ্ছেন শিকারিরা।

শামুক শিকারিরা জানান, বর্ষা মৌসুমে বিলপাড়ের অনেক বাসিন্দাদের হাতে কাজ কম থাকে। ফলে বাড়তি আয়ের জন্য তারা এ কাজ করেন। এ কাজে নিজেদের ব্যাপকভাবে নিয়োগ করেছেন নারীরাও। প্রতিদিন নৌকা নিয়ে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মই জাল, হেসি জাল ও হাত দিয়ে শামুক সংগ্রহ করেন তারা। পরে এসব শামুক পাইকারদের কাছে ৫-৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়।

সাঁথিয়া উপজেলার করমজা ইউনিয়নের শামুকজানি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বিল থেকে নারী ও পুরুষরা শামুক সংগ্রহ করে এনে প্রতিকেজি ৫-৭ টাকা দরে বিক্রি করছেন। আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন হাঁস ও মাছের খামারিদের কাছে বিক্রি করছেন ৮-১০ টাকা কেজি দরে।

শামুকজানি গ্রামের আলতাফ হোসেন  বলেন, ‘পানি কম থাকলে হাত দিয়ে শামুক ধরা যায়। বিভিন্ন জাল দিয়ে ধরতে হয়। প্রতিকেজি শামুক ৫-৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। এ দিয়ে কাজ না থাকার এই সময়ে টুকটাক বাজার-সদাই তো চলে।’

সাঁথিয়ার আফড়া গ্রামের রশিদ ও নাহিদা বলেন, ‘আইন কানুন কী আছে জানি না। কেউ কখনো বলেও নাই। এই সময় কাজ-কাম কম থাকে। এ কারণে সংসারে টানাটানি থাকে। তাই নৌকা নিয়ে আবার কখনো নৌকা ছাড়াই শামুক ধরি। পরে সেগুলো বস্তায় ভরে পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করি। গড়ে ৪০০-৫০০ টাকা ইনকাম করা যায়।’

শামুক ব্যবসায়ী আজমত শেখ জানান, বর্ষাকালে এসব এলাকায় প্রচুর শামুক পাওয়া যায়। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ বস্তা শামুক বেচাকেনা হয়। তবে সাঁথিয়ার অন্যান্য জায়গায় আরও বেশি বেচাকেনা হয়। বিলপাড়ের মানুষেরা বিভিন্ন আকারের শামুক শিকার করে আমাদের কাছে আনেন। আমরা এগুলো ক্রয় করে অল্প লাভে খুলনায় সরবরাহ করি।

এগুলো বেচাকেনা অপরাধ। তবুও এগুলো কেন করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘টাকার জন্য ব্যবসা করি। আইনে এসব নিষিদ্ধ কি-না কিছুই জানি না।’

এদিকে অপরিকল্পিতভাবে এসব খাল-বিলের জীববৈচিত্র্যের অন্যতম অনুষঙ্গ নিধনের ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, ‘শামুক মাটিতে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়। কৃষি উৎপাদন বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নির্বিচারে অতিরিক্ত হারে শামুক নিধন উচিত নয়। এটি সরাসরি ফসলে প্রভাব না ফেললেও জীববৈচিত্র্যের ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।’

শামুক মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে জানিয়ে পাবনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপক কুমার পাল বলেন, জীববৈচিত্র্যের প্রত্যেকটি বিভাগের সাথে অন্য বিভাগের সম্পর্ক রয়েছে। এক্ষেত্রে শামুকের সঙ্গে অন্যন্য জলজ প্রাণীর পাশাপাশি মৎস্য বা মাছেরও সম্পর্ক রয়েছে। শামুকের ছোট ডিম ও বাচ্চাগুলো খেয়ে কিছু মাছ বেঁচে থাকে। এছাড়া শামুক নিচের ময়লা খেয়ে পানি পরিষ্কার রাখে। এটি শুধু মাছ নয় অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্যও ইতিবাচক বিষয়।

তিনি বলেন, বিল বা খালে শামুক প্রয়োজনীয় হারের তুলনায় কম হয়ে গেলে সেটি মাছ বা জলজ অন্যান্য প্রাণীর জন্যও ক্ষতিকর বিষয় হবে। অবাধে শামুক শিকার রোধের বিষয়টি আমাদের দেখার তেমন সুযোগ নেই। ফলে আমরা তেমন পদক্ষেপ নিতে পারি না। তবে বিনা বিবেচনায় শামুক শিকার করে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

রাজশাহী বিভাগীয় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবীর জানান, শামুককে বলা হয় ‘প্রাকৃতিক জলশোধন ব্যবস্থা’ (ফিল্টার)। শামুক ময়লাযুক্ত পানি পান করে জীবনধারণ করে। ফলে পানি পরিষ্কার থাকে। পানিতে শামুক না থাকলে পানির প্রাকৃতিক শোধন ক্ষমতা হ্রাস পায়।

তিনি বলেন, সরকারের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী শামুক সংগ্রহ, ধ্বংস, ভক্ষণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, আমদানি-রপ্তানি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। যার সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছর কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। তবে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি অতি জরুরি বলেও তিনি জানান।

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park