নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে তিন হাজার টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ১০ বছর আগের জারি করা পরিপত্র আনুযায়ীই ভারত যাচ্ছে ইলিশ। সেই পরিপত্র আনুযায়ী প্রতি কেজি ইলিশ ১০ ডলর নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন করে আর দাম নির্ধারণ না করার সেই দামেই ভারত যাচ্ছে ইলিশ।
তবে বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দেশের ৪৯টি প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের প্রধান নিয়ন্ত্রককে চিঠি দিয়ে ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতির কথা জানানো হয়েছে। ৪৯টি প্রতিষ্ঠানকে এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি প্রতিষ্ঠান ৫০ টন করে ২ হাজার ৪০০ টন, আর একটি প্রতিষ্ঠান ২০ টন ইলিশ রফতানি করবে।
ইলিশ রফতানির অনুমতি পাওয়ার জন্য আবেদনের শেষ সময় ছিল সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত। নতুন ও পুরোনো সব আবেদনপত্র এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ইলিশ রফতানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর বিপরীতে দেওয়া হয় আটটি শর্ত। শর্তে বলা হয়েছে, অনুমতির মেয়াদ কার্যকর থাকবে আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত।
যেসব শর্ত দিয়ে প্রতিবছর ইলিশ রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়, এবারও সেগুলোই রাখা হয়েছে। শর্তগুলো হচ্ছে–– বিদ্যমান রফতানিনীতির বিধিবিধান মানা, শুল্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ইলিশের কায়িক পরীক্ষা করানো এবং প্রতিটি চালান (কনসাইনমেন্ট) শেষে রফতানি সংক্রান্ত কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা।
এছাড়া অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ইলিশ রফতানি না করা, অনুমতি কোনোভাবেই হস্তান্তর না করা এবং অনুমোদিত রফতানিকারক ছাড়া ঠিকায় (সাব-কন্ট্রাক্ট) রফতানি না করা। আরও বলা হয়েছে, সরকার যেকোনও সময় রফতানি বন্ধ করতে পারবে। সব সময়ই এসব শর্ত থাকে।
ইলিশ রফতানির অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো–– আরিফ সি ফুডস, জারা এন্টারপ্রাইজ, সততা ফিশ ফিড, এস এ আর এন্টারপ্রাইজ, নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ, তানিশা এন্টারপ্রাইজ, রুপালী সি ফুডস লিমিটেড, লাকি এন্টারপ্রাইজ, টাইগার ট্রেডিং, রিপা এন্টারপ্রাইজ, জেবিএস ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মাশফি অ্যান্ড ব্রাদার্স, মহিমা এন্টারপ্রাইজ, সেভেন স্টার ফিশ প্রসেসিং কোম্পানি লিমিটেড, রহমান ইমপেক্স, আসিফ ইমপেক্স, নোমান এন্টারপ্রাইজ, যমুনা অ্যাগ্রো ফিশারিজ, রুপালী ট্রেডিং করপোরেশন, সততা ফিশ, প্যাসিফিক সি ফুডস লিমিটেড, জেজে ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল, বিশ্বাস ইন্টারন্যাশনাল, ক্যাপিটাল এক্সপোর্ট ইমপোর্ট অ্যান্ড কোম্পানি, অর্পিতা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, সুমন ট্রেডার্স, সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ, সততা ফিশ, আঁচল এন্টারপ্রাইজ, ২ এইচ ইন্টারন্যাশনাল, এমএপি ইন্টারন্যাশনাল, সরদার এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট, ইউভা ট্রেডিং, ফারিয়া ইন্টারন্যাশনাল, আসফা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, স্ট্যান্ডার্ড ফুড করপোরেশন, জেএস এন্টারপ্রাইজ, পদ্মা অ্যাগ্রো ফিশারিজ, ন্যাশনাল অ্যাগ্রো ফিশারিজ, মেসার্স আহনাফ ট্রেডিং, নাফিজা এন্টারপ্রাইজ, ডিপ সি ফিশারিজ লিমিটেড, মাসুদ ফিশ প্রসেসিং, আরকে ট্রেডার্স, বৃষ্টি এন্টারপ্রাইজ, ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ ও লোকজ ফ্যাশন।
এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লোকজ ফ্যাশন ২০ টন, আর বাকি সবকটি প্রতিষ্ঠান ৫০ টন করে ইলিশ রফতানির অনুমোদন পেয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়েছে গত বৃহস্পতিবার থেকে। ওইদিন ২০টি ট্রাকে ৫৪ মেট্রিক টন ৪৬০ কেজি ইলিশ মাছ ভারতে রপ্তানি হয়। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ৪৫ মেট্রিক টন ২০০ কেজির মতো ইলিশ রপ্তানির গেট পাশ হয়েছে। এ নিয়ে গত দু’দিনে বেনাপোল দিয়ে ভারতে রফতানি হলো ৯৯ মেট্রিক টন ৬৬০ কেজি ইলিশ। প্রতি কেজি ইলিশ রপ্তানি হচ্ছে ১০ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি ১ হাজার ১৮০ টাকা দরে।
জানাগেছে, পাইকারিতে প্রতি এককেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে একই আকারের ইলিশ প্রায় ৫০০ টাকা কমে ভারতে রফতানি হচ্ছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পরিদর্শক আসওয়াদুল আলম বলেন, এই প্রশ্নের উত্তর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা দিতে পারবেন। তবে আমি যেটা জানি সেটা হলো, ইলিশ রপ্তানির পরিপত্রটি কয়েক বছর আগের। তখনকার বাজারদরের সঙ্গে মিল রেখে ১০ ডলারে প্রতি কেজির রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এখনো সেই পরিপত্র অনুযায়ীই রপ্তানি হচ্ছে। তবে ইলিশের দেশিয় বাজারদরের সঙ্গে সংগতি রেখে দাম সমন্বয় হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্ট মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছিলেন, ‘দেশবাসী ইলিশ পাবে না, আর বিদেশে রফতানি হবে, এটা হতে পারে না। আগে দেশকে গুরুত্ব দিতে হবে। এরপর রফতানি করা হবে।’
গত ২১ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই ভারতে তিন হাজার টন ইলিশ রফতানির কথা জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, বৃহত্তর স্বার্থে এবং সর্বোচ্চ মহলের সিদ্ধান্তে ভারতে ইলিশ মাছ রফতানি করা হচ্ছে।