1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
জাতীয় পে-কমিশন : সর্বনিম্ন বেতন ২০০০০, সর্বোচ্চ ১৬০০০০ টাকা করার সুপারিশ - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

জাতীয় পে-কমিশন : সর্বনিম্ন বেতন ২০০০০, সর্বোচ্চ ১৬০০০০ টাকা করার সুপারিশ

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৪৯ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ ডেস্ক:

নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহ আগে গতকাল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন পেশ করেছে নবম জাতীয় বেতন কমিশন। ২৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদনটি পেশ করা হয়।

এসময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সব পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানিয়েছেন। আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত ২৭ জুলাই গঠন করা হয় ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর এটি গঠিত হলো।

কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ তারিখ ছিল আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। প্রতিবেদনের জন্য নির্ধারিত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয় করে কাজটি সম্পন্ন করেছে কমিশন।

প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদন গ্রহণের পর সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। এসময় তিনি বলেন, ‌‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।’

এসময় কমিশন প্রধান বলেন, গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বহুগুণ বেড়েছে। সময়োপযোগী ও যথাযথ বেতন কাঠামো না থাকায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণ করে বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করেছে কমিশন।

নির্ধারিত কার্যপরিধি অনুসরণ করে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে অনলাইন ও অফলাইনে মোট ১৮৪টি সভা আয়োজন করেছে এবং ২৫৫২ জনের মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কমিশন। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সভার মাধ্যমে ব্যাপক মতবিনিময় করা হয়েছে।

কমিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান নির্ধারণ ও এর বাস্তবায়নযোগ্যতা পর্যালোচনা করা।

প্রতিবেদন দাখিলকালে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘এই প্রস্তাব বাস্তবায়নই এখন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হবে, যা বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে কাজ করবে।’

কমিশন সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি বেতন স্কেলে সুপারিশ দিয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকায় এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

কমিশনপ্রধান জানান, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
প্রেস উইং জানায়, কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বলেছেন, সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হলে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

দ্বিতীয় ধাপে বর্তমানে মূল বেতন ৬৬ হাজার টাকা। এটি বাড়িয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা সুপারিশ করা হয়েছে। এভাবে তৃতীয় ধাপে ৫৫ হাজার ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার, চতুর্থ ধাপে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ, পঞ্চম ধাপে ৪৩ হাজার থেকে ৮৬ হাজার, ষষ্ঠ ধাপে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৭১ হাজার, সপ্তম ধাপে ২৯ হাজার থেকে ৫৮ হাজার, অষ্টম ধাপে ২৩ হাজার থেকে ৪৭ হাজার ২০০, নবম ধাপে ২২ হাজার থেকে ৪৫ হাজার ১০০, দশম ধাপে ১৬ হাজার থেকে ৩২ হাজার, ১১তম ধাপে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার, ১২তম ধাপে ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৪ হাজার ৩০০, ১৩তম ধাপে ১১ হাজার থেকে ২৪ হাজার, ১৪তম ধাপে ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৩ হাজার ৫০০, ১৫তম ধাপে ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২২ হাজার ৮০০, ১৬তম ধাপে ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম ধাপে ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ১০০, ১৮তম ধাপে ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার, ১৯তম ধাপে ৮ হাজার ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ৫০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেসামরিক সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়ে প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর এখন সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন চূড়ান্ত করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রী/প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবং জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য ২০ ধাপের বাইরে একটি ধাপ তৈরি করবে অর্থ বিভাগ, যা পরে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।

কমিশনের প্রতিবেদনে নতুন নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে— সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দপ্তরসমূহে ভাতাসমূহ পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park