সুমন ইসলাম :
অপ্রচলিত পণ্য দিয়ে কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে দেশে যার অনেকটাই অজানা। আপনি কি জানেন মাছের পিটুইটারি গ্রন্থি| যার এক কেজির দাম ৩০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা।
মাছের পিটুইটারি গ্রন্থি হলো মাছের মস্তিষ্কের নিচে অবস্থিত একটি ছোট গ্রন্থি।
পিটুইটারি গ্রন্থির প্রধান কাজগুলো হলো:
বিভিন্ন হ্যাচারিতে প্রজনন কাজে এবং ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে এই গ্রন্থির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে কার্প জাতীয় মাছ এবং মাগুর মাছের এই গ্রন্থির ব্যাপক চাহিদা আছে।
সারাবিশ্বে প্রতি বছর কয়েকশো টন পিটুইটারি গ্রন্থির প্রয়োজন হয়। মৎস্য প্রধান আমাদের দেশ এটার ব্যাপক রপ্তানিকারক দেশ হতে পারি৷ বৈদেশিক অর্থের পরিমাণ লোভনীয় এবং আমাদের জন্য অতিপ্রয়োজনীয়। ২০২৪ এ এই গ্রন্থি রপ্তানি হয়েছে ৭.৫ টন।
এর পরিমাণ বাড়ালে এবং সংগ্রহের কারিগরি কৌশল শিখলে আরও অনেক বেশী পরিমাণে এই গ্রন্থি রপ্তানি করা যাবে৷ মাছের মাথার মস্তিষ্কের নীচে থাকে এই গ্রন্থি ফলে মাছের খাবারের অংশটি অক্ষুণ্ণ থাকবে।
মাছের পিটুইটারি গ্রন্থির নির্যাস ইনজেকশন আকারে ব্যবহার করে মাছের প্রজনন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা যায়। একে ইনডিউসড ব্রিডিং বা হাইপোফাইজেশন বলা হয়। এটি মাছের হ্যাচারিগুলোতে রেণু পোনা উৎপাদনে সহায়তা করে।
মাছের পিটুইটারি গ্রন্থি একটি মূল্যবান উপাদান যা মাছের বাজার থেকে সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। বিশেষ করে, কার্প ও ক্যাটফিশ জাতীয় মাছের পিটুইটারি গ্রন্থি বেশি ব্যবহৃত হয়।
মাছের পিটুইটারি গ্রন্থি সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিপণনের সাথে জড়িত থাকার কারণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
মাছের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।