কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক :
২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নে কেন্দ্রগুলোর ২০০ গজের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্যতীত জনসাধারণের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
বুধবার (৯ এপ্রিল) ডিএমপি কমিশনার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, যেহেতু পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন, সেহেতু আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-III/১৯৭৬) এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ব্যতীত জনসাধারণের অনধিকার প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আদেশ আগামী ১০ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিনগুলোতে পরীক্ষা চলাকালীন সময় পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
এছাড়াও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, গুজব এবং অসাধু কার্যকলাপ রোধে সরকারের নির্দেশনায় দেশের সব কোচিং সেন্টার ৩৫ দিনের জন্য বন্ধ থাকবে বৃহস্পতিবার থেকে। পরীক্ষার সব ধরনের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশনা বহাল থাকবে। একইসঙ্গে সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে কোনো ধরনের ফটোকপি মেশিন চলানোর ক্ষেত্রেও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
গত ১৬ মার্চ ‘এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল (সি আর) আবরার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সভায় পরীক্ষা চলাকালীন সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়। গুজব প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক জনসচেতনতার জন্য প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠুভাবে বজায় রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করা হয়।
এছাড়া শিক্ষা বোর্ড থেকে দূরবর্তী কেন্দ্রগুলো থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে উত্তরপত্র দ্রুততম সময়ে বোর্ডে পৌঁছানোর জন্য ডাক বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়। বোর্ডের নিকটবর্তী কেন্দ্রগুলো থেকে উত্তরপত্র দ্রুততম সময়ে সরাসরি বোর্ড পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
জানা গেছে, চলতি বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বসছে ১৯ লাখ ২৮ হাজার ২৮১ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন। মাদরাসা বোর্ডে দাখিল পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন। শিক্ষা বোর্ডগুলো ইতোমধ্যেই পরীক্ষার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ১০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হবে। বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে শুরু হবে এবারের পরীক্ষা। পরীক্ষা চলবে আগামী ১৩ মে পর্যন্ত। এ বছর ১৯ লাখ ২৮ হাজার পরীক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ পরীক্ষায় অংশ নেবে।
নির্দিষ্ট দিনগুলোতে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তত্ত্বীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৫ থেকে ২২ মে পর্যন্ত। প্রশ্নফাঁস, গুজব, নকল বা অসদুপায় অবলম্বনের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রতি বোর্ডের ১৪ নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো- পরীক্ষা শুরুর ৩০ (ত্রিশ) মিনিট পূর্বে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে; প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে; প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না; পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিকট হতে পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে তিন দিন পূর্বে সংগ্রহ করবে; শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলো এনসিটিবির নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে প্রেরণ করবে; পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের OMR ফরমে তার পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না; পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে; প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়/বিষয়সমূহের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না; কোনো পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা (সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক) নিজ বিদ্যালয়ে/প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে না। পরীক্ষার্থী স্থানান্তরের মাধ্যমে আসন বিন্যাস করতে হবে; পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে; কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি/পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে এবং ব্যবহার করতে পারবেন না; সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতি পত্র ব্যবহার করতে হবে; ব্যবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্র/ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে; এবং পরীক্ষার ফল প্রকাশের ৭ (সাত) দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষার জন্য অনলাইনে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।