কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং দেশে এখন প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুদ আছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয় মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি ৭১) এর নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, ‘আমি সরকারের বুলি আওড়াচ্ছি না, সত্যিটাই বলছি। দেশে এই মুহূর্তে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুদ রয়েছে যা গত বছরের চেয়ে বেশি। এ ছাড়া আরও প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন সার পাইপলাইনে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গত বছর এই সময়ে সারের মজুদ ছিল ১২ লাখ টন। বর্তমানে গোডাউনে মজুদ আছে প্রায় ১৩ লাখ টন। আর বন্দরে বা জাহাজে পাইপলাইনে আছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টন। দেশে বছরে সারের মোট চাহিদা ৪০ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন। ফলে সারের কোনো সংকট নেই।’
মন্ত্রী বলেন, ‘একটি সংঘবদ্ধ দল বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে গত কয়েকদিনে আমরা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনতে পেরেছি। কৃষকবান্ধব সার বিতরণে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রণয়নের জন্য একটি নতুন নীতিমালা করেছে। এতে প্রতি ইউনিয়নে ৩ জন করে মাস্টার ডিলার রাখার বিধান করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন বিএডিসির, একজন বিসিআইসির এবং নতুন করে আরও একজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।’
আমিন উর রশিদ জানান, ডিলারদের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চালের গুদাম বা ধানের মিলে সার পাওয়ার মতো ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, জরিমানা ও ডিলারশিপ বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপজেলা, জেলা ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলাদা মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সারের চাহিদার মাত্র ৩০ শতাংশ আমরা দেশে উৎপাদন করতে পারি। গ্যাস সংকটের কারণে ৭টি সার কারখানার মধ্যে ৬টিই বিভিন্ন সময় বন্ধ থাকছে। আমাদের সার উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও গ্যাসের অভাবে আমরা উৎপাদন করতে পারছি না। বাধ্য হয়ে দেশের চাহিদার সিংহভাগ সারই আমাদের আমদানি করতে হচ্ছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সার আমদানিতে কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে কাতার থেকে সার আসতে সমস্যা হচ্ছে। তবে চুক্তির কারণে সৌদি আরব বিকল্প বন্দর ব্যবহার করে সার সরবরাহ করছে। পাশাপাশি কাতার থেকে যে সার আসার কথা ছিল তার বিকল্প হিসেবে আমরা কানাডা এবং মরক্কো থেকে সার আমদানি করছি। কাজেই কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’
বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্য রংপুর অঞ্চলে সার সংকটের অভিযোগ তুললে মন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, গত বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রংপুর অঞ্চলে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি এবং এমওপি সারের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।