কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার শেষ প্রান্তে মাছ আহরণের সময় ৭৯ নাবিকসহ দুটি নৌযান জব্দ করে নিয়ে গেছে ভারতীয় কোস্টগার্ড। তারা আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আইনীভাবেই এ সমস্যার সমাধান করা হবে বলে সংশ্লিস্ট সূত্রে জানাগেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায,খুলনার হিরণ পয়েন্ট এলাকার অদূরে সোমবার দুপুরে তারা ট্রলারসহ নাবিকদের ধরে নিয়ে যায় বলে মালিক্ষপক্ষ ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে। আটককৃত নৌ যান ও নাবিকদের বিরুদ্ধে ইতেমধ্যে আইনী প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারতীয় কোস্টগার্ড ।নৌযান দুটি হল- এফভি মেঘনা-৫ ও এফভি লায়লা-২। মঙ্গলবার নৌযান দুটির মালিকপক্ষ নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছেন। তবে নাবিকরা ভারতের জলসীমায় অবস্থান করছে বলে জানাগেছে।
নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম জানান, ভারতের সমুদ্রসীমার কাছ থেকে জাহাজ দুটি আটক করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। কোস্ট গার্ডসহ সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছিল। তিন্তু ভারতীয় কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় নেওয়ায়। আইনীভিাবেই সমাধান করা হবে। এছাড়াও কূটনৈতিরভাবেও তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
মৎস্য অধিদফতরের (ব্লু ইকোনমি) সেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান,আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পকক্ষেপ নেওয়ার জন্য মন্ত্রনালয়কে অবহিত করে চিঠি দিয়েছি। বাকি ব্যবস্থা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া হবে।
সিঅ্যান্ডএ অ্যাগ্রোর নির্বাহী পরিচালক সুমন সেন বলেন, বাংলাদেশের হিরণ পয়েন্টে নৌযান মাছ ধরছিল। সেই সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোমবার দুপুরে দুটি নৌযানকে ভারতের কোস্ট গার্ডের সদস্যরা আটক করে নিয়ে যায়। এফভি মেঘনা-৫ ও এফভি লায়লা-২ খুলনা বেল্টের হিরণ পয়েন্ট থেকে ভারতের জলসীমায় নিয়ে গেছে। সংবাদটি কোস্ট গার্ড, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি। এফভি মেঘনাতে ক্রু ও জেলে মিলিয়ে মোট ৩৭ জন এবং লায়লাতে ৪২ জন ছিল। মঙ্গলবার সকালেও নাবিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা ভালো আছেন। তাদের সর্বশেষ অবস্থান সমুদ্রেই ভাসমান অবস্থায় রয়েছে জানিয়েছেন।