কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জন্য টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড কেনার ব্যবহারের অনুমোদন, আগামী ৩১ জানুয়ারির পর বিদেশি যারা অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থানকারীদের আল্টিমেটাম, র্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর জন্য নতুন পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ সব কথা জানান।
তিনি বলেন, আগামী ৩১ জানুয়ারির পর বিদেশি যারা অবৈধভাবে বাংলাদেশের অবস্থান করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে শুধু অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধেই নয় যে সংস্থাগুলো তাদের কাজ দেবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগে আমাদের দেশের বিদেশি যারা ছিল তাদের সংখ্যাটা হল ৪৯ হাজার ২২৬ জন। এখন এটা কমে আসছে ৩৩ হাজার ৯৪৮। আগামী ৩১ জানুয়ারি তাদের এই সময়ে সীমা শেষ হয়ে যাবে। আমরা ইতিমধ্যে এদের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বিভিন্ন আয় করেছি। আর যেহেতু তারা চলে যাচ্ছে, যারা অবৈধভাবে আছে ৩১ জানুয়ারির পর তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। এটা শুধু অবৈধ বিদেশি বিরুদ্ধেই নয় যারা তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জন্য সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস শেল (কাঁদানে গ্যাস) কেনা হচ্ছে। সীমান্তে সবসময় লেথাল (প্রাণঘাতী অস্ত্র) দেওয়া ছিল। অনেকে প্রশ্ন করেছেন, বিজিবি কেন সাউন্ড গ্রেনেড মারেনি, কেন কাঁদানে গ্যাস মারেনি? কিন্তু এগুলো তো বিজিবির কাছে নেই। তাদের কাছে লেথাল, যেটা তারা ব্যবহার করতে পারেনি। বিজিবির কাছে এগুলো নেই, তাহলে তারা কীভাবে এগুলো ব্যবহার করবে? এখন আমরা তাদের অনুমতি দিয়ে দিয়েছি, তাদের জন্য এসব জিনিস ক্রয় করা হবে। সীমান্তে এখন পরিস্থিতি কেমন- জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, সীমান্ত এখন স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। সেখানে বড় ধরনের কোনো সমস্যা নেই। গত ১৮ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তখন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু বিজিবি এমন কোনো অস্ত্র ব্যবহার করেনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মরণঘাতী উইপেন ওদের (বিএসএফ) কাছে আছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের ওদের কাছে আছে (সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার সেল); কিন্তু আমাদের কাছে নেই, এজন্য কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রাণঘাতী অস্ত্রতো ওদের দেওয়াই আছে। প্রাণঘাতী অস্ত্র তো যে সময় দরকার হলে এখন যদি সেনাবাহিনীকে জিজ্ঞাস করেন, আপনারা প্রাণঘাতী উইপেন ব্যবহার করতে পারবেন কি না? যুদ্ধ হলে কী ব্যবহার করবে? যুদ্ধ হলে ওটাই ব্যবহার করবে। পরিস্থিতি হলে ডিকটেট করবে- কোন সময় কোনটা ব্যবহার করবে। বিজিবির জন্য কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড কেনার সিদ্ধান্তকে ভারত কীভাবে নেবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর বলেন, ভারতের কাছে তো সাউন্ড গ্রেনেড আছে; ওদের তো এটা খারাপভাবে নেওয়ার কোনো স্কোপ নেই। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তারা (ভারত) অভিযোগ দিচ্ছে- আমরা উস্কানি দিচ্ছি, আমরা অভিযোগ করছি- ওরা উস্কানি দিচ্ছে; এটাতো বর্ডারের ব্যবস্থা।আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সীমান্ত নিয়ে হওয়া চুক্তি কিংবা সমঝোতার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগামী মাসে মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠক আছে। এসব অসম চুক্তির বিষয়ে আমরা উল্লেখ করব।
র্যাব, পুলিশ ও আনসারের নতুন পোশাক নির্ধারণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, র্যাব, পুলিশ ও আনসারের নতুন পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছে। পোশাকের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। আমরা বিজিবির জন্য একটি, পুলিশের জন্য একটি এবং আনসারের জন্য একটি পোশাক নির্ধারণ করেছি। তিনটি পোশাকই আজকে নির্ধারণ করেছি। পর্যায়ক্রমে বাহিনীগুলোর সদস্যদের নতুন পোশাক দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
কেন পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো- এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে সবারই মন মানসিকতা সবকিছু পরিবর্তন হতে হবে। আপনারা (সাংবাদিক) একটা ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জোর দেবেন সেটা হলো দুর্নীতি। দেশ থেকে যদি দুর্নীতি দূর করতে পারেন, তবে অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যাবে।
পোশাক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অর্থের প্রয়োজন হবে না জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, পোশাক যখন দেওয়া হচ্ছে, এভাবে আস্তে আস্তে আমরা দিয়ে দেব। যেন বড় ধরনের সমস্যা না হয়। বৈঠকে ১৮ ধরনের পোশাকের ট্রায়াল দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে পাঁচ রঙের পাঁচটি পোশাক নির্ধারণ করা হয়। পরে সেই পাঁচজনের মধ্য থেকে তিনটি পোশাক নির্বাচন করে কমিটি। পুলিশের পোশাকের রং আয়রন, র্যাবের পোশাকের রং গ্রিন অলিভ, আনসারের পোশাকের রং গোল্ডেন হোয়াইট বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ১১ আগস্ট পুলিশের পোশাক ও লোগো পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন অন্তর্র্বতী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
সেই সময় তিনি বলেন, পুলিশের পোশাক-লোগো সব পরিবর্তন করা হবে। অনেকের মন ভেঙে গেছে, এই ইউনিফর্ম পরে পুলিশ আর কাজ করতে চাইছে না। খুব দ্রুতই তা পরিবর্তন করা হবে। এসব বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ কমিশন হওয়া উচিত। সেই কমিশনের অধীনে পুলিশ পরিচালিত হবে। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের অধীনে থাকবে না। পুলিশকে যেন রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করা হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।